বাংলাদেশ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনতে চায় উল্লেখ করে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক জোনে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগেরও অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের হাইটেক পার্ক, তথ্য প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের সহজলভ্যতার কারণে এ দেশে বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লাভজনক হবে। মোমেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে দুই বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল করায় এ খাতে কর্মরত শ্রমিকরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে, যার অধিকাংশ নারী।
মাইক পম্পেও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র করোনা মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সাহায্যের জন্য ৪৩ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। তিনি করোনা মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও দৃঢ় ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন ড. মোমেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমার সময়ক্ষেপণ করছে। সম্প্রতি রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা হিসেবে ৮২০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে।
মানবপাচার রোধে টিআইপি রিপোর্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ধাপে উন্নয়নের প্রশংসা করেন মাইক পম্পেও। এ বিষয়ে ড. মোমেন যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত এনে তার শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাইক পম্পেওকে অনুরোধ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মোমেন বলেন, করোনা মহামারি সারা পৃথিবীকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় পৃথিবীর সকল দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। এ বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। টেলিফোনে আলাপকালে উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দেন।