‘অভিবাসীদের নিয়ে দর কষাকষির ক্ষেত্রে শক্তির খেলাই বাস্তবতা’

ভার্চুয়াল সেমিনারে মোহাম্মাদ শহীদুল হকঅভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য শক্তিশালী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা দরকার বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো মোহাম্মাদ শহীদুল হক। মঙ্গলবার রাতে মাইগ্র্যান্ট ফোরাম অফ এশিয়া আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সেমিনারে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, দর কষাকষির ক্ষেত্রে শক্তির খেলাই বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতে এটি দূর হয়ে যাবে না।

অভিবাসন সবসময়েই ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু- উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি মাকের্ট ও শ্রমিকের মধ্যে এবং যেসব দেশ লোক পাঠায় (অরিজিন) এবং যারা তাদের গ্রহণ করে (ডেস্টিনেশন) তাদের শক্তির যুদ্ধ। এর মধ্যে অভিবাসী এবং সেসব দেশ তাদের পাঠায় তারা কিছুটা দুর্বল থাকে। যেহেতু এটি একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, এর মাধ্যমে অভিবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

অরিজিন দেশগুলোকে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা ও তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বেগ পেতে হয় বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, যখন আমরা অধিকার, মজুরি বা জোর করে শ্রমিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে দর কষাকষি করতে গেছি, তখন মধ্যপ্রাচ্যের অনেক শক্তিশালী দেশ বাংলাদেশকে মনে করিয়ে দিয়েছে এর জন্য বাংলাদেশের অসুবিধা হতে পারে।

দর কষাকষির ক্ষেত্রে শক্তির খেলাই বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতে এটি দূর হয়ে যাবে না বলে মনে করলেও শহীদুল বলেন, ‘শক্তির প্রভাবকে অকার্যকর করার একটি প্ল্যাটফর্ম আছে এবং সেটি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা। কিন্তু এই ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে গেছে।’

এসডিজি বা গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অফ মাইগ্রেশনের একটি মূল্য আছে, কিন্তু সদস্য রাষ্ট্রগুলো এটি ব্যবহার করতে চায় কিনা সেটি প্রশ্নের বিষয় বলে তিনি জানান।

শ্রমিকের অধিকার ও নায্যতা নিয়ে কথা ক্যাম্পেইন চালাতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে জানাতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি লাভের কথা বিবেচনা করে তারা নায্যতা নিশ্চিত করবে।

অনুষ্ঠানে ভারতের সাবেক মন্ত্রী শশী থারুর, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থামহ অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরসহ সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।