বাড়ির উঠানে পশুর হাট!

বাড়ির উঠানে পশুর হাট
ইজারা শর্ত ভেঙে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির সামনে হাট বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুই সিটি করপোরেশনের ইজারা শর্ত অনুযায়ী ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন হাট বসানোর অনুমতি রয়েছে। তবে এরই মধ্যে বাঁশ-খুঁটি দিয়ে ইজারাদাররা হাটের বাইরে আশপাশের বাসাবাড়ির সামনেও অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে কোরবানির পশুও রাখা হয়েছে। এ যেন বাড়ির উঠানে কোরবানির পশুর হাট! এ অবস্থায় বেশ কয়েকটি স্থানে হাট না বসানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) নগরীর উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গায় বসানো সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠ পেরিয়ে আশপাশের বাসাবাড়ির সামনেও পশু রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাসাবাড়ির উঠান ও পেছনের খালি জায়গাতে বাঁশের খুঁটি লাগানো হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। হাটটি বাতিল করতে গত ২৫ জুলাই স্থানীয় বাসিন্দারা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে মানববন্ধন করেছেন। পাশাপাশি ডিএসসিসি মেয়র বরাবর আবেদনও করেছেন।

বাড়ির উঠানে পশুর হাট
জানতে চাইলে কলোনির বাসিন্দা আরিফ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এটি আবাসিক এলাকা। এখানে শত শত বাসাবাড়ি রয়েছে। সিটি করপোরেশন বলেছে তারা কোনও জনবহুল এলাকায় হাট বসাবে না। কিন্তু এভাবে একটি আবাসিক এলাকায় হাট বসানোর কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। তাছাড়া এলাকাটি করোনাভাইরাসের জন্য রেড জোন। কিন্তু এত সবের পরেও মানুষের বাসাবাড়ির সামনে-পেছনে সবখানেই কোরবানির পশু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
একই অবস্থা দেখা গেছে আফতাব নগর (ইস্টার্ন হাউজিং) হাটে। এরই মধ্যে ওই আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও বাসাবাড়ির সামনে পশু রাখার জন্য বাঁশ, খুঁটি ও সামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। এরই মধ্যে হাটের বিভিন্ন অংশে কোরবানির পশু রাখা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাড়ির উঠানে পশুর হাট
স্থানীয় বাসিন্দা হাজী মোবারক হোসেন বলেন, করোনার কারণে জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য বলা হলেও আফতাব নগরের মতো একটি আবাসিক এলাকায় হাট বসানো হয়েছে। ইজারাদার উন্মুক্ত জায়গার পাশাপাশি মানুষের বাসাবাড়ির সামনেও পশু রাখার ব্যবস্থা করেছে। আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। কারণ হাটে সব ধরনের মানুষ ভিড় করবে। এখান থেকেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে মেরাদিয়ায় হাট বসানোর প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর এলাকায় মানববন্ধন করেছেন দক্ষিণ বনশ্রীর স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, এলাকাটি খুবই জনবহুল। এখানে হাট বসানো হলে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।

বাড়ির উঠানে পশুর হাট
এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় পাঁচটিসহ মোট ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তর সিটির গাবতলী ও দক্ষিণ সিটির সারুলিয়া স্থায়ী হাটেও কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে। এসব হাটের প্রস্তুতির জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ জুলাই ২৭ জুলাই পর্যন্ত দুই দিন। আর ২৮ জুলাই থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন চলবে হাটের কার্যক্রম। এই সময়ের আগে কোনোভাবে পশুবাহী ট্রাক রাজধানীতে প্রবেশ করতে পারবে না বলেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করেই বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পশু আসতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সবকটি হাটেই পশু নিয়ে আসতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা পশু নিয়ে নিজেদের পছন্দের জায়গায় অবস্থান নিয়েছেন। যদিও অনেক হাটের প্রস্তুতি এখনও শেষই হয়নি।

বাড়ির উঠানে পশুর হাট
এছাড়া, লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, দনিয়া কলেজ মাঠ, মেরাদিয়া বাজার, হাজারীবাগের ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি মাঠসহ বেশ কয়েকটি অস্থায়ী পশুর হাটে একই চিত্র দেখা গেছে। এসব হাটের ব্যাপারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ভালো জায়গা দখল করতে নির্ধারিত সময়ের আগেই হাটে চলে এসেছেন। তবে আসার আগে তারা ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলেই এসেছেন।
জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ থেকে ১২টি গরু নিয়ে খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠে আসা ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, অনেক সময় বৃষ্টি-বাদল থাকে। তখন পশু আনতে সমস্যা হয়। আর শেষ মুহূর্তে আসলে ভালো জায়গা পাওয়া যায় না। তাই পশুকে ভালো জায়গায় রাখার জন্য একটু আগে চলে এসেছি।
এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা এ বছর হাট বসানোর জন্য বেশ কিছু নিয়ম করে দিয়েছি। সবধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হাট পরিচালনা করতে হবে। হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। কেউ যদি ইজারার শর্ত ভাঙে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ বছর কোনও জনবহুল এলাকায় হাট বসাচ্ছি না। দরপত্র আহ্বান করেও পরে ছয়টি হাট বাতিল করেছি। হাটে না গিয়েও যাতে মানুষ পশু কিনতে পারে, এজন্য ডিজিটাল হাট চালু করেছি।’
প্রতিটি হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যেকোনও শর্ত ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম