জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে সোমবার (১৭ আগস্ট) জাতির পিতার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন। শোক দিবস উপলক্ষে এমন আয়োজনের জন্য তিনি অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা; যিনি সারাজীবন নির্লোভ ও নির্মোহ থেকে বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। ২৫ মার্চের কাল রাতেও অদম্য সাহসিকতার সঙ্গে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। পদ-পদবির লোভ না করে বৃহত্তর লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি এগিয়ে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব ছিলেন তাঁর ছায়াসঙ্গী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও বেগম মুজিব, তাদের দুই পুত্র, দুই পুত্রবধূ ও শিশু শেখ রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।’ এ সময় ১৫ আগস্টে শহীদ সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান স্পিকার।
স্পিকার বলেন, ‘সুখি-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠনই ছিল জাতির পিতার একমাত্র লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের জীবনধারণ উপযোগী শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর লক্ষ্য। এই দর্শন ও আদর্শকে ধারণ করে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশ গঠনের কাজে যেভাবে আত্মনিয়োগ করেছেন, তাতে আমাদের সবার সহযোগিতা করতে হবে।’
সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খানের সভাপতিত্বে এবং সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখার পরিচালক উপসচিব মো. তারিক মাহমুদ ও উপপরিচালক সামিয়া রুবাইয়াত হোসেইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি, হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও হুইপ আতিউর রহমান আতিক এমপি বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপসচিব এস এম মঞ্জুর ও উপসচিব এ কে এম জি কিবরিয়া মজুমদার কবিতা আবৃত্তি এবং সিনিয়র কমিটি অফিসার ফারহানা বেগম বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল মুনিম, সহকারী সচিব আসিফ হাসান, কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আতর আলী ও আবুল খায়ের উজ্জ্বল বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।