পররাষ্ট্র সচিব জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য বড় ধরনের কোনও বিনিয়োগও বাংলাদেশ চায় না। কারণ এর ফলে রাখাইন থেকে রোহিঙ্গারা দলে দলে আবার বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে উৎসাহিত হবে।রোহিঙ্গা সমস্যা একটি জনগোষ্ঠীকে প্রান্তিকীকরণের জ্বলন্ত উদাহরণ হিসাবে অভিহিত করে সচিব বলেন, এর সমাধান মিয়ানমারেই আছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রীতিনীতি ভঙ্গ করে রোহিঙ্গাদের অত্যাচার চালানো হয়েছে এবং সেই কারণে দায়বদ্ধতার বিষয়টি আন্তর্জাতিকীকরণ হয়েছে জানিয়ে মাসুদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ কোর্ট ও আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সচিব বলেন, আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে সবসময়ে সব বিষয়ে যোগাযোগ রেখেছি কিন্তু স্পষ্টভাবে বলতে গেলে প্রতিবেশী দেশ আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মর্যাদা দেয়নি। দুইবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফল হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এর কারণ হচ্ছে রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে ভয় পাচ্ছে।
মাসুদ বিন মোমেন বলেন, রাখাইনে প্রত্যাবাসনের পরে রোহিঙ্গারা যেন জীবন জীবিকা অর্জন করতে পারে তার জন্য গ্রেড ৬ থেকে ৯ পর্যন্ত মিয়ানমার কারিকুলামে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে।
ভাষানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে মাসুদ বলেন, আমরা সেখানে রোহিঙ্গাদের সরেজমিনে নিয়ে যাব। সেখানকার অবস্থা ভালো মনে করলে বর্ষা মৌসুমের পরে তাদের সেখানে স্থানান্তর করা হবে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও মালয়েশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী সৈয়দ হামিদ আলবার, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো মোহাম্মাদ শহীদুল হক, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার ও কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনোয়া প্রিফন্টেইনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে কয়েকজন রোহিঙ্গা অনুষ্ঠানে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করেন।
মালয়েশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী সৈয়দ হামিদ আলবার বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু মানবিক সমস্যা বরং এটি বৈশ্বিক ও রাজনৈতিক সমস্যা। রোহিঙ্গা সমস্যার প্রভাব সরাসরিভাবে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া অনুভূত হচ্ছে জানিয়ে আলবার বলেন, আসিয়ানের কয়েকটি সদস্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনলেও ওই সংস্থার এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও নীতি নেই।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অচলাবস্থা হওয়ার কোনও সুযোগ নেই জানিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো মোহাম্মাদ শহীদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেফ জোন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পুনরায় জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনও ইচ্ছা ছাড়াই শান্তি আলোচনায় মিয়ানমার অংশগ্রহণ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমার জান্তাকে বিশ্বাস করে না এবং এই সমস্যা সমাধানের কোনও চেষ্টা মিয়ানমার কখনও করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, তার দেশ মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে যাতে করে সেখানে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত না হয়। কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনোয়া প্রিফন্টেইন দায়বদ্ধতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ বিষয়ে আরও জোরালো ভূমিকা রাখা উচিৎ।
২০১৭ এর ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আট লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমার চুক্তি স্বাক্ষর করলেও মিয়ানমারের অনাগ্রহের কারণে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি।