‘করোনা সম্পর্কে জানলেও প্র্যাক্টিস নেই’

করোনা বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রমের প্রাপ্ত ফল অবহিতকরণ সভায় অতিথিরাকরোনা সম্পর্কে মানুষের নলেজ রয়েছে, কিন্তু তার প্র্যাক্টিস নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মুনীর। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা করোনাকালে কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে পারিনি, ভলান্টিয়ার গ্রুপ তৈরি করতে পারিনি। সেটা করতে পারলে জনগণের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি হতো। তবে এখনও সময় আছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘করোনার সংক্রমণের হার হয়তো কমছে, কিন্তু সেটা প্রোলং (দীর্ঘায়িত) হচ্ছে। একইসঙ্গে রোগীদের কন্টাক্ট ট্রেসিং মিস হচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা এবং জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত কোভিড-১৯ বিষয়ে তিনটি গবেষণা কার্যক্রমের প্রাপ্ত ফল অবহিতকরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গবেষণার তথ্য উপস্থাপনা করে অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসী বলেন, ‘করোনাভাইরাস সম্পর্কে অনেকের মাঝেই রয়েছে ভ্রান্ত ধারণা। একটি গবেষণাতে দেখা গেছে, ৭৪ ভাগ উত্তরদাতাই মনে করেন করোনাভাইরাস মরণব্যাধি, এ রোগ হলে মৃত্যু নিশ্চিত। এই ভাইরাস কীভাবে ছাড়ায় এবং কীভাবে তা প্রতিরোধ করা যায়, সে সম্পর্কে অনেকের জ্ঞান থাকলেও তা মানেন না। শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অনান্য বিধি-নিষেধ মানার প্রবণতা অনেক কম।’

জনসাধারণ, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোভিড-১৯ সম্পর্কে জ্ঞান বা সচেতনতার ব্যাপ্তি, মনোভাব এবং এর প্রয়োগ নিরুপনের লক্ষ্যে এই তিনটি গবেষণা কার্যক্রম মার্চ মাস থেকে আগস্ট পর্যন্ত এক হাজার ৫৪৯ জনের ওপর পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। বক্তব্য রাখেন অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ ও অধ্যাপক ডা. শাহ্ মুনীর। এছাড়া অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিসটেম (এমআইএস) শাখার পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান। গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসী ও জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহ মাহফুজুর রহমান।

ঢাকা মহানগরী ও দেশের উত্তরাঞ্চলের দু’টি গ্রামীণ জনপদসহ অনলাইনে এক হাজার ২৪৯ জনের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৯ দশমিক ৮ ভাগ উত্তরদাতার করোনাভাইরাস কীভাবে ছড়ায় সে সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান আছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি ৭০ ভাগ উত্তরদাতা জানেন। এই ভাইরাসের সংক্রমণ কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় এ সম্পর্কে জানেন ৫১ দশমিক ৬ ভাগ উত্তরদাতা।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৬০৪ জনের ওপর পরিচালিত অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৫ ভাগ উত্তরদাতা করোনা রোগ ছড়ানো, প্রতিরোধসহ বিভিন্ন তথ্য জানেন। ৭৬ ভাগ উত্তরদাতা ব্যক্তি পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি চর্চা করেন।

আবার বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচালিত তৃতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য মেডিক্যালে অধ্যয়নরতদের মধ্যে বেশি, কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি পালন করেন না মেডিক্যাল কলেজের ৬৯ দশমিক ১৯ ভাগ এবং ৭৯ দশমিক ৪ ভাগ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।