গত ২৬ আগস্ট অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় প্রাথমিক শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতা দূর করতে প্যানেল পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানান প্যানেল প্রত্যাশীরা।
সালেহা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘করোনা মহমারির মধ্যে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নষ্ট করে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে দীর্ঘসূত্রিতা দূর করতে ২০১৪ সালে স্থগিত ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হোক। কারণ এদের চাকরির বয়স সবারই শেষ হয়ে গেছে চার বছর নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের কারণে। সবাই প্যানেলের অপেক্ষায় এখন কর্মহীন বেকার জীবন-যাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই চান দেশে কোনও মেধাবী বেকার তৈরি না হোক। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে দ্রুত সংসদীয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিচ্ছি।‘
প্যানেল প্রত্যাশীরা জানান, ২০১৪ সালে স্থগিত ২০১৮ অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ লাখ প্রার্থী। মোট উত্তীর্ণ হয় ২৯ হাজার ৫৫৫ জন প্রার্থী। শূন্যপদ থাকার পরও নিয়োগ দেওয়া হয় মাত্র ৯ হাজার ৭৬৭ জন। এই পরীক্ষায় পাসের হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। উত্তীর্ণ ১৯ হাজার ৭৮৮ জন আজও প্যানেলভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। যদিও এর মধ্যে অনেকেই অন্য চাকরিতে আগেই চলেন গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে ২০১৮ সালের নিয়মিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৭ হাজার ১৪৮ জন প্যানেলভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। এই প্যানেল প্রত্যাশীদের অনেকের কাছ থেকে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল টাকার বিনিময়ে প্যানেলে নিয়োগ দেওয়ার নাম করে অর্থও আদায় করেছে। বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানান পর গত ২৬ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব প্যানেল প্রত্যাশীদের সতর্ক করে করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকল আনুষ্ঠানিকতা পালন করে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সকল শূন্যপদ বিবেচনা করে ১৮ হাজার ১৪৭টি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কোনও প্যানেল করার বিষয় উল্লেখ ছিল না। ফলে এই নিয়োগে কোনও প্যানেল বা অপেক্ষমান তালিকা করা হয়নি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ একটি রুটিন প্রক্রিয়া। ভবিষ্যতে পদশূন্য হবে বিবেচনা করে প্যানেল করার সুযোগ নেই। এই প্রেক্ষাপটে প্যানেল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় কোনও প্রকার অর্থ লেনদেন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হলো।