জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার ঘটনার নেপথ্যের নায়কদের তথ্যসহ এ বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করার জন্য একটি জাতীয় কমিশন চায় সংসদীয় কমিটি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় কমিশন গঠন করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেউ রয়েছে কিনা, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্তসহ সার্বিক বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্য জাতীয় কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সংসদীয় কমিটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও দক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে এ কমিশন গঠন করতে বলেছে। যাতে করে ঘটনার নেপথ্যে যারা জড়িত তাদের তথ্য জাতি জানতে পারে।’
এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের ১৭ জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জন্য একটি জাতীয় কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।
একদল সেনা কর্মকর্তা এই হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিলেও এর পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা আওয়ামী লীগ নেতারা বরাবরই বলে আসছেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের উল্টো যাত্রা শুরু হয়েছিল। খুনিদের বাঁচাতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, তাদের নানা পদ দিয়ে পুরস্কৃতও করা হয়েছিল।
১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর ইতিহাসে চিহ্নিত কালো ওই অধ্যাদেশ বাতিলের পর জাতির পিতার খুনের বিচারের পথ উন্মুক্ত করে। দীর্ঘ বিচার শেষে ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি পাঁচ আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়। বাকি ছয় জন পলাতক থেকে যায়। ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মাজেদ সম্প্রতি গ্রেফতার হলে তারও ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বাকিরা এখনও পলাতক রয়েছে।
এদিকে বঙ্গবন্ধু খুনের দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি ছাড়াও ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের নায়কদের খুঁজে বের করার দাবি উঠেছে গত কয়েক বছর ধরে। এ বছরও ভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জোরালো দাবি এসেছে।
আবদুল মতিন খসরুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, মো. শামসুল হক টুকু, শহীদুজ্জামান সরকার, শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার অংশ নেন।