অনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যমূল্য, উদ্বিগ্ন বঙ্গবন্ধু

দৈনিক বাংলা, ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭২

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জেনেভায় বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবরে এ কথা উল্লেখ করা হয়। এই সূত্রে আরও বলা হয়, বঙ্গবন্ধু তাঁর সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছিলেন এবং জিনিসপত্রের অবাঞ্ছিত মূল্যবৃদ্ধি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন তিনি। এর আগের দিন তিনি মুনাফাখোর কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেন।

বিপিআই পরিবেশিত অপর এক খবরে বলা হয়, ২ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টেলিফোনে অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলামের  সঙ্গে আলাপ করেন। বঙ্গবন্ধু দেশের পরিস্থিতি জানতে চান এবং অল্প দিনের মধ্যে তার দেশে ফেরার বিষয়ে আগ্রহের কথা জানান। এ সময় অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী তাকে খাদ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে গৃহীত ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর শরীর তখনও ঠিকমতো সেরে ওঠেনি। তিনি এখনও খুব দুর্বল বলে তার চিকিৎসকরা জানান। তার কোনও জায়গায় যাবার মতো শারীরিক শক্তি হয়নি উল্লেখ করে চিকিৎসকরা বলেন, তার দেশে ফেরা বিলম্বিত হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সৈয়দ নজরুল ইসলামের আলাপকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইল অবজাভার, ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭২রেশনের নতুন বরাদ্দ

১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বরে যে রেশন বরাদ্দ ছিল সেটা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে সরকার প্রতি সপ্তাহে দেড় সের  চালের পরিবর্তে এক সের করে চাল নির্ধারণ করে দেয়। খবরে জানানো হয়, বর্তমানে চালের ঘাটতি ও অধিক পরিমাণে গমের মজুত থাকায় সরকার রেশনে আগেকার কোটা অনুযায়ী দুই সের গমের পরিবর্তে সপ্তাহে মাথাপিছু তিন সের গম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বদলীয় সরকার চায় ভাসানী

ভাসানীপন্থী ন্যাপের উদ্যোগে পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় একমাত্র বক্তা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সর্বদলীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানান। ভুখা মিছিলের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘ভুখা মিছিল কোনও সরকারি পদস্থ অফিসারকে হত্যা করা অথবা অফিস-আদালত পোড়ার জন্য নয়, এটি মানুষের বাঁচার দাবি প্রতিপালন পদ্ধতি।’ তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দৈনিক ইত্তেফাক, ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭২দেশের সরকারকে অবশ্যই জনগণের কথা শুনতে হবে এবং অন্যথায় ক্ষমতা পরিত্যাগ করতে হবে।’ পল্টনে আয়োজিত মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জনসভা শেষে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি গণভবনের সামনে উপস্থিত হয় এবং এর সঙ্গে এখানে খোলা জিপে করে ভাসানী, কাজী জাফরসহ নেতারা উপস্থিত হন। বিকাল সাড়ে পাঁচটায় মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সরকারের অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। এ সময় গণভবনে অধিকাংশ বিভাগীয় মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপি পেশ করার পর আলোচনা প্রসঙ্গে ভাসানী বলেন যে, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সর্বদলীয় দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা না হলে দেশের বর্তমান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না।’ সেখানে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী ফণিভূষণ মজুমদার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মান্নান, শ্রমমন্ত্রী জহুর আহমদ চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, বন্যানিয়ন্ত্রণ মন্ত্রী খোন্দকার মোশতাক আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক পরিষদ ও সবুজ বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু যেদিন জেনেভা থেকে ঢাকায় আসবেন, সেদিন সাড়ে সাত লাখ বিড়ি শ্রমিককে ঢাকায় উপস্থিত থাকার জন্য কেন্দ্রীয় পরিষদ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে পত্রিকার সংবাদে প্রকাশ করা হয়।