তবে আইনমন্ত্রীর বরাত দিয়ে ‘নির্বাহী আদেশে খালেদার মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বাড়লো’ বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম।
ড. রেজাউল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার। সেই আবেদনপত্রটির আইনগত দিক পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করে মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করা আবেদনপত্রটি পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই এবং এর আইনগত দিক বিবেচনা করে তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর পক্ষে সম্মতি দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
তবে সাজা স্থগিতের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর শর্ত হিসেবে আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, বিদেশে নয়, বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা নিতে হবে দেশেই। তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
তিনি আরও জানান, বেগম জিয়ার আবেদনের এ সংক্রান্ত ফাইল আইন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ ফাইলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর তা নির্বাহী আদেশ হিসেবে গেজেট প্রকাশ করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগের শর্তেই বেগম জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর বিষয়ে আমরা মতামত দিয়েছি। তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। আমাদের মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। বাকি প্রক্রিয়া সেখান থেকে সম্পন্ন হবে।’
উল্লেখ্য, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার ৬ মাসের সাজা স্থগিতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। পরবর্তীকালে ৩০ অক্টোবর এই মামলার আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।