পরিবেশ চিন্তায়ও বঙ্গবন্ধু দূরদর্শিতার ছাপ রেখে গেছেন: কৃষিমন্ত্রী

ওয়েবিনারে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যরাআওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র সাড়ে তিন বছর সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলেও তিনি রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গের ভীত স্থাপন করেছিলেন। তিনি যেমন অর্থনীতি, অবকাঠামো, বিচার ব্যবস্থা ও শিক্ষা খাত গড়ে তোলা শুরু করেন, তেমনি পরিবেশের ক্ষেত্রেও তার দূরদর্শী চিন্তার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি ৭০ এর দশকের শুরুতেই সবুজ বেষ্টনি গড়ে তোলা, সমুদ্রসীমা আইন প্রণয়নসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।’

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটি আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের সুরক্ষা ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ডিজিটাল মাধ্যমে এ ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় এবং বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ড. সুলতানা শফি, অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর, নগর গবেষক ও পরিবেশবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, পিআইব’র মহাপরিচালক সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার কাটিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফ দেওয়ান।

কৃষিমন্ত্রী তার বক্তব্যে পরিবেশ খাতে বঙ্গবন্ধুর নানা পরিকল্পনা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। প্রায়ই ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় হয়। বঙ্গবন্ধু শুরু থেকেই বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি এ দেশের উপযোগী নতুন নতুন কৃষি ফসল উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন। কৃষি গবেষণাবিষয়ক একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। লবণাক্ত এলাকায় কীভাবে ফলন বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কৃষিবিদদের কাজ করতে বলেছিলেন। দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শুরু থেকেই সবুজ বেষ্টনি গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন। বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলায় উদ্যোগী হয়েছিলেন। এমনকি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনও তারই অবদান।’

বঙ্গবন্ধু বার বার দেশবাসীকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করেছেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘জাতির পিতা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্টদের।’

ড. রাজ্জাক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, তিনি আগাছা শেষ করতে পারছেন না। কৃষির মতো রাজনীতিতেও আগাছা আছে। এরা উচ্ছিষ্টভোগী। তিনি রাজনীতির এসব আগাছাও পরিষ্কার করতে চেয়েছিলেন। তিনি যখন ছয় দফা প্রণয়ন করেন তখন আওয়ামী লীগের তৎকালীন অনেক বড় নেতাই তাকে সমর্থন করেননি। কিন্তু তিনি এগিয়ে গেছেন। ফাঁসির ঝুঁকি নিয়েও ছয় দফা প্রকাশ করেছিলেন, এর পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন, জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন এবং এর আলোকেই আমরা স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে গেছি।’