মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ডেমরায় করিম জুটমিলে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ৩০ জনের হাতে পাওনার চেক ও সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন। পাট মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈকত চন্দ্র হালদার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলোতে বিরাজমান পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান এবং পাটখাত পুনরুজ্জীবিত করতে বিজেএমসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি চালু মিলে কর্মরত সব স্থায়ী শ্রমিকের গ্রাচ্যুইটি, পিএফ ও ছুটি নগদায়নসহ গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধার মাধ্যমে চাকরি অবসায়ন করে উৎপাদন কার্যক্রম গত ১ জুলাই থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বন্ধ ঘোষিত ২৫টি মিলের ২৪ হাজার ৬০৯ জন স্থায়ী কর্মরত শ্রমিকদের পাওনা বাবদ প্রায় চার হাজার কোটি টাকা এবং ২০১৩ সালের পর থেকে অবসরপ্রাপ্ত ১০ হাজার ১০৭ জনশ্রমিকের গ্রাচ্যুইটি, পিএফ ও ছুটি নগদায়ন বাবদ পাওনা প্রায় এক হাজার কোটি টাকাসহ মোট প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা পর্যায়ক্রমে তিনটি অর্থবছরে পরিশোধের প্রস্তাব করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের আর্থিক দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে শ্রমিকদের সব পাওনা চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে এককালীন পরিশোধের সিদ্ধান্ত দেন। শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকের পাওনার ৫০ শতাংশ নগদে এবং বাকি ৫০ শতাংশ তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আকারে পরিশোধ করার নির্দেশনা দেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শ্রম আইন, ২০০৬ এর বিধান অনুযায়ী ৬০ দিনের নোটিশের পরিবর্তে কাজ করা ছাড়াই শ্রমিকদের জুলাই এবং আগস্ট মাসের মজুরী ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী শ্রমিকদের শতভাগ পাওনা এককালীন পরিশোধের জন্য সব পাওনা হিসাব নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় নিরীক্ষা শেষে করিম জুটমিলে পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ কার্যক্রম শুরু করে।