লিজ নেওয়া দুই উড়োজাহাজে ক্ষতি ১১শ’ কোটি টাকা

সংসদীয় কমিটির বৈঠকপাঁচ বছর আগে ইজিপ্ট এয়ারলাইন্স থেকে লিজ নেওয়া দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০  উড়োজাহাজের পেছনে বাংলাদেশ বিমানের ক্ষতি হয়েছে ১১শ’ কোটি টাকা। রবিবার (৪ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, ওই দুটি উড়োজাহাজের পেছনে প্রতিমাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১১ কোটি টাকা করে ভর্তুকি দিয়ে আসছিল। দায়দেনা পরিশোধ করে লিজ বাতিলের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে বিমান মুক্ত হতে পেরেছে। এই উড়োজাহাজ দুটি পরিচালনায় রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২২শ’ কোটি টাকা। আর  উড়োজাহাজ দুটির পেছনে খরচ হয়েছিল ৩৩শ’ কোটি টাকা।

জানা গেছে, পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ারলাইন্স থেকে দুটি উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর লিজ নেয় বিমান। এর একটি বিমানের বহরে যুক্ত হয় ২০১৪ সালের মার্চে এবং অন্যটি যুক্ত হয় ওই বছরের মে মাসে। পরের বছর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই আরেকটি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনা হয়। এর দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয় বাকি ইঞ্জিনটিও। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আবারও ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। পরে নষ্ট হয়ে যায় ভাড়ায় আনা ইঞ্জিনও। ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। তবে এজন্য কোনও সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। সে কারণে লিজ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান উভয়কেই অর্থ দিতে হয় বিমানকে। লিজ এনে বিমান ফেলে রাখার কারণে বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয় বিমানকে। বিষয়টি নিয়ে দশম সংসদের সংসদীয় কমিটি বারবার লিজ বাতিলের সুপারিশ করলেও তা কার্যকর হয়নি তখন। সর্বশেষ দায়দেনা প্রতিশোধের মাধ্যমে গত মার্চে লিজ বাতিল করে বিমান।

গত ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিমান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, ‘বিমান এই লিজ সংস্কৃতি থেকে একেবারে বেরিয়ে আসতে চাইছে। এ বছরে নতুন ৩টি ড্যাশ-৮ বিমান আসার কথা ছিল। তার মধ্যে দুটি এ বছরের মধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হবে। আর একটি আগামী জানুয়ারিতে বিমান বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা যায়। এ বিমানগুলো ২৪ মিলিয়ন ডলার দিয়ে কেনা হয়েছে ।’

ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার বলেন, ‘বিমানের লিজ প্রক্রিয়াটা তার কাছে স্পষ্ট নয়।’ এই প্রক্রিয়ার সময় বিষয়টা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা করার প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মনে করেন।

বৈঠকে জানানো হয়, জুলাই মাসে বিমান ১৮৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। তার আগের মাসে আয় ছিল ১৬৯ কোটি টাকার মতো। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিমান কোনও কর্মচারী ছাঁটাই করেনি। তবে বেতন কিছুটা কাটছাঁট করে সবাইকে ধরে রাখা হয়েছে। গত কয়েক বছর আগে কয়েকটি নতুন এয়ারক্রাফট ক্রয় করা হয়েছিল। এত কিছুর পরও বিমান এ সময়ে সব কিস্তি পরিশোধ করেছে।

এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিমান সরকারের কাছ থেকে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল, যার মধ্যে মাত্র ৩০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, বাকি টাকা খরচ হবে না।