রবিবার (১ নভেম্বর )সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপ্তিকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
ড. হাছান বলেন, ‘আইএমএফ’র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও এশিয়ান ডেভেলোপমেন্ট ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী এ বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে বিশ্বের গুটিকতক ভালো প্রবৃদ্ধির দেশের অন্যতম। আইএমএফ বলছে, এ বছরের শেষান্তে আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতকেও ছাড়িয়ে যাবে। এই প্রতিবেদন প্রকাশে পুরো উপমহাদেশ প্রশংসায় তোলপাড়। ভারতের সমস্ত গণমাধ্যমে, রাজনৈতিক সভা-সমিতিতে, বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা হচ্ছে। শুধু ভারতে নয়, পাকিস্তানেও একই ঘটনা। পাকিস্তানে কোনও কোনও টেলিভিশনে আবার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য বলছে ‘আমাদের ভায়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ভারত-পাকিস্তানে তোলপাড় পড়ে গেছে।’
‘কিন্তু বাংলাদেশে যারা অর্থনৈতিক সমীক্ষা নিয়ে কাজ করেন, অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করেন, তাদের মুখে আমরা কোনও বক্তব্য দেখতে পাইনি’ বলে আক্ষেপ করেন মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘তবে আইএমএফ কিংবা এশিয়ান ডেভেলোপমেন্ট ব্যাংক বা কোনও পত্রিকা যদি ছিটেফোঁটা নেতিবাচক প্রতিবেদনও দিত, তাহলে দেখতে পেতেন এতদিনে তাদের বক্তব্যে সব টেলিভিশন ঝালাপালা হয়ে যেতো।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে ইতিবাচক প্রতিবেদন নিয়ে ভারত জুড়ে তোলপাড়, এতে তারা নিশ্চুপ। এতে প্রশ্ন আসে, দেশে ভালো কিছু হলে তারা আদৌ খুশি হন কিনা। তারা কি আসলে দেশকে খারাপভাবে, নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার জন্য গবেষণা করে। কোনও ইতিবাচক প্রতিবেদন হলে তারা নিশ্চুপ থাকে কেন -এটি অনেকেরই প্রশ্ন।’
এসময় মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তির বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘হযরত মুহাম্মদকে (সা.) অবমাননাকর কোনও কিছু আমরা কোনওভাবেই সমর্থন করি না। অতীতেও এ ধরণের ধর্মীয় আঘাতের প্রতিবাদ করা হয়েছে। কোনও ধর্মের অনুভূতিতেই আঘাত দেওয়া কখনই সমীচিন নয়। পাটগ্রামের ঘটনার ব্যাপারেও সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনাও কোনওভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। পৈশাচিক ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।’
এর আগে খুলনা জেলা প্রশাসনের মুজিববর্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় দেশের তৃতীয় বৃহত্তম খুলনা শহরের পাশে বটিয়াঘাটা উপজেলায় ১ লাখ ২০ হাজার গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নামে বোটানিকেল গার্ডেন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের প্রশংসা করেন মন্ত্রী।
খুলনা জেলার ডেপুটি কমিশনার মোহজাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সম্মানিত অতিথি এবং খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।