বিশেষ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ (ফাইল ফটো)

মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ শুরু করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে তিনি ভাষণ শুরু করেন।

এর আগে ৬টা ৮ মিনিটে সংসদে প্রবেশ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের পর জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।

এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভাষণের ভিডিও ভার্সন সম্প্রচার করা হয়। ভাষণ সম্প্রচারকালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে বারবার টিস্যু দিয়ে চোখ মুছতে দেখা গেছে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে জাতির পিতার জন্ম থেকে শুরু করে কর্মময় জীবনের বিভিন্ন অবদান তুলে ধরেছেন। তুলে ধরেছেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সংগ্রাম, বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের প্রতিটি সংগ্রামে তাঁর নেতৃত্ব, জেল-জুলুমের বিষয়ও। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে স্বাধীনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর কর্মসূচি বর্ণনা করেছেন। সংসদ নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, বিরোধী মতের প্রতি তাঁর গুরুত্ব উঠে এসেছে এই ভাষণে। বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠনের পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার কারণে সংসদে মিস করার আক্ষেপের বিষয়টিও এসেছে এই  ভাষণে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলের নানা অবদান উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে শেখ হাসিনার যে যাত্রা, তা উঠে এসেছে এতে। চলমান কোভিড-১৯ সফলভাবে মোকাবিলা করে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তার চিত্রও রয়েছে এই ভাষণে।

ভাষণ শেষে আজকের (সোমবার) বৈঠকেই সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে ১৪৭ বিধিতে প্রস্তাব তুলবেন। এই প্রস্তাবের ওপর আগামী তিন দিন আলোচনা শেষে তা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, মুজিববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গত ২১ অক্টোবর এই বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেন। একাদশ সংসদের দশম এই অধিবেশন রবিবার শুরু হলেও বিশেষ অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আজ সোমবার শুরু হলো। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম চলবে। এরপর আগামী সপ্তাহে দুই-তিন কার্যদিবস সাধারণ বৈঠক আকারে চলার পর এ অধিবেশন শেষ হবে।