১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্ন হয় এবং প্রস্তুতি যেন যথাসময়ে শেষ হয় সে লক্ষ্যে তাগাদা দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংগঠনগুলোকে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন দ্রুত কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। বিপিআই’র খবরে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। খবরে বলা হয়, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আসন্ন নির্বাচনকে সফল করার জন্য কতিপয় নির্দেশ দেন। আগেই মঞ্জুরিকৃত পদসমূহে নিয়োগের উদ্দেশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অফিসার সংগ্রহ ব্যাপারটি চূড়ান্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের কাজের জন্য নিয়োজিত লোকদের বেতন নির্বিঘ্ন করতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলকে বলা হয়। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন অফিসের মধ্যকার সংযোগ স্থাপনের জন্য টেলিফোনের ডিরেক্টর জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে ভোট গণনার কাজ প্রায় সমাপ্ত এবং শিগগির ভোটার তালিকা ছাপানোর কাজ শুরু হবে বলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়। নির্বাচন কমিশন এখন অফিসের প্রিজাইডিং অফিসার অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের নিয়োগ করার কাজে হাত দেবেন। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণপরিষদের অধিবেশন চলাকালে সংবিধান পাস হওয়ার পরপরই সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। নির্বাচন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বিধানে সরকার আনসার বাহিনী গঠনের নির্দেশও দেয়।
ভোটার তালিকা ২০ নভেম্বর
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস এনা প্রতিনিধিকে বলেন, ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ। ১৯৭২ সালের ২০ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা প্রণয়ন কাজে নিযুক্ত লোকরা যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন। যথাসময়ে কাজ শেষ করার জন্য দ্রুতগতিতে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসার তালিকা প্রণয়ন করবেন এবং এগুলো থানা ও ইউনিয়ন অফিসে পাওয়া যাবে, যাতে কিনা ভোটাররা নাম সংশোধনের সুযোগ পাবে। ১৯৭৩ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। ভোটার তালিকা প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে ভোটারদের কোনও আপত্তি থাকলে তা জানাতে বলা হয়।
প্রেসিডেন্ট নিক্সন বিশাল জয় নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর ইত্তেফাকের প্রধান খবর ছিল এটি। ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জনের পর এক বিবৃতিতে সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে শান্তি প্রতিষ্ঠা প্রচেষ্টায় যোগদান করার জন্য তিনি সকল আমেরিকানের প্রতি আবেদন জানান। নিক্সনের দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ঘটনায় সারা বিশ্বের মানুষ অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক উন্নয়নের আশা প্রকাশ এবং সামনের বছরগুলোতে নিক্সন ও মার্কিন জনগণের সর্বপ্রকার সাফল্য কামনা করেন। বঙ্গবন্ধু তার বাণীতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে আপনি পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় আমি আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি আমাদের এই দুই দেশের মধ্যে ক্রমাগত বন্ধুত্ব বৃদ্ধি ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি এবং আমার এবং আমার জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে আগামী বছরগুলোতে আপনার ও মহান মার্কিন জনগণের সর্বপ্রকার সাফল্য কামনা করছি।