রাজধানীর পাঁচটি মসজিদ এবং একটি মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশের মুখেই মাস্ক ছিল না। সবখানেই সামাজিক দূরত্বে ছিল অনুপস্থিত। মসজিদ ও মন্দিরের সামনে ছিল না জীবাণুনাশক কক্ষ বা হাত ধোয়ার বেসিন ও সাবান। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ। এই মসজিদের সামনে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত নিয়ম সম্বলিত বড় ব্যানার টানানো হয়েছে।
বাইতুল মোকাররম মসজিদে জোহরের নামাজের সময় দেখা যায়, মুসল্লিদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক ছিল না। আর যাদের মুখে মাস্ক ছিল তারাও নিয়ম অনুযায়ী সঠিকভাবে পরেননি। অনেকের মাস্ক থাকলেও ঢাকা ছিল না মুখ ও নাক। আর নামাজের কাতারে দাঁড়ানোরা মানেননি সামাজিক দূরত্ব। সাধারণ সময়ের মতো পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। আল আমিন নামে এক মুসল্লিকে মুখে মাস্ক নেই কেন, জানতে চাইলে বলেন, ‘মাস্ক পকেটে আছে। নামাজের ওজু করার সময় খুলে পকেটে রেখেছি।’
একই অবস্থা ছিল সেগুন বাগিচার মসজিদ-ই-নূরে। এই মসজিদের ভেতরে কিংবা বাইরে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। মসজিদ কর্তৃপক্ষও জানায়, নতুন করে জারি হওয়া সরকারি নির্দেশনা সম্পর্কে তারা জানেন না। এই মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল হাসনাত বলেন, ‘আমাদের কাছে নতুন করে জারি হওয়া স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত কোনও নির্দেশনা আসেনি। এই কারণে মসজিদের মাইকে মাস্ক পরার বিষয়ে সচেতনতামূলক কোনও প্রচারণা করা হয়নি। মসজিদের বাইরে ব্যানার এবং জীবাণুনাশক কক্ষ কিংবা বেসিন-সাবান রাখা হয়নি। আর মুসল্লিরাও আগের নিয়মে নামাজ আদায় করেছেন।’
শুধু এই তিন মসজিদ নয়, রাজধানীর পল্টন জামে মসজিদ এবং নয়াপল্টন লেন মসজিদে আসা মুসল্লিদেরও মাস্ক ব্যবহারে অনীহা লক্ষ করা গেছে।
এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরেও স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি উপেক্ষিত দেখা গেছে। রাজধানীর মৌচাকে শ্রী শ্রী শিদ্ধেশ্বরী কালীমাতার মন্দিরে সোমবার ভক্তদের তেমন কোনও ভিড় ছিল না। তবে মন্দিরে আসা বেশির ভাগের মুখেই মাস্ক ছিল না। মন্দিরের ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি ছিল উপেক্ষিত। তবে মন্দিরের প্রধান ফটকে স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতা সম্পর্কিত ব্যানার থাকলেও ছিল না জীবাণুনাশক বুথ কিংবা হাত ধোয়ার বেসিন-সাবান। মন্দিরের সভাপতি জয়ন্ত কুমার দে বলেন, ‘আমরা নতুন করে জারি হওয়া স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অবহিত না। তবে, এখন যেহেতু জেনেছি, কাল থেকে পালন করা হবে।’
প্রসঙ্গত, রবিবার কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়, ইদানীং গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করা যাচ্ছে, সারাদেশে বিশেষ করে মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাস্ক ব্যবহারে শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউয়ে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে।
মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা
মসজিদে সব মুসল্লির মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরে প্রবেশের জন্য প্রতি ওয়াক্ত নামাজের আগে মসজিদের মাইকে প্রচারণা চালাতে হবে। পাশাপাশি মসজিদ কমিটিকে মসজিদের ফটকে ব্যানার প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ অন্য ধর্মের অনুসারীরা আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরে উপাসনালয়ে প্রবেশ করবেন। মাস্ক পরে উপাসনালয়ে প্রবেশের জন্য প্রধান ফটকে ব্যানার প্রদর্শন সংশ্লিষ্ট উপাসনালয় কমিটিকে নিশ্চিত করতে হবে। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ বিষয়ে সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। কিছুক্ষণ পর পর সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়াসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।