সংসদে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিলেন খোদ স্পিকার

স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী (ফাইল ফটো)জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনা সাধারণ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। সংসদের কোনও সাধারণ প্রস্তাবের আলোচনায় স্পিকারের অংশ নেওয়ার ঘটনা বিরল। রবিবার (১৫ নভেম্বর) অধিবেশনের শুরুতে আলোচনার কার্যসূচি শুরু করে স্পিকার নিজের আসনে বসেই বক্তব্য রাখেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধান প্রণয়ন এবং বঙ্গবন্ধুর দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের ৭২ এর সংবিধানে যে মূলনীতি, আদর্শ, দর্শন সবকিছুই দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে একই সূত্রে গাঁথা। ১৯৪৭ থেকে শুরু ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট, ৬৬ এর বাঙালির মুক্তি সনদ ৬ দফা, ৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থ্যান, ৭০ এর নির্বাচন, ৭ ই মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা এবং একাত্তরে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে যে সংগ্রামের ইতিহাস অর্জিত হয়েছে, ৭২ এর সংবিধানের প্রেক্ষাপট তারই ওপর রচিত হয়েছে। অনেক রক্তের ইতিহাস।’

বঙ্গবন্ধুর একটি বক্তব্য থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘৭২ এর সংবিধানের মূল প্রতিপাদ্য ভবিষ্যৎ বংশধররা যদি সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মনিরেপক্ষতার ভিত্তিতে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে আমার জীবন স্বার্থক হবে শহীদদের রক্তদান স্বার্থক হবে।’ আমাদের সবাইকে এই মর্মকথা উপলব্ধি করতে হবে। মূল প্রতিপাদ্য স্মরণ রাখতে হবে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে। এই সংবিধানকে পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করার দায়িত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের ওপর, ভবিষ্যৎ বংশধরদের ওপর এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরেই ন্যস্ত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন ধারণ করে এই সংবিধান যেন বাংলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের মধ্যেদিয়ে অর্থবহ করে, সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে হবে। এই সংবিধানকে সুরক্ষিত এবং সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে আমাদের সদা সচেতন থাকতে হবে। মুজিববর্ষে আমাদের অঙ্গীকার করতে হবে—সংবিধানের সুফল আমরা বাংলার সব মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবো। এই সংবিধান তখনই স্বার্থক হবে, যখন বাংলার মানুষ ক্ষুধা-দারিদ্র্য-বঞ্চনা ও বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়ে উন্নত জীবন পাবে। এই লক্ষ্য অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অনুধাবন করে মানবতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুসের উন্নতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের উন্নয়নের যে গণতন্ত্র, বঙ্গবন্ধু সেই গণতন্ত্রে তিনি বিশ্বাস করতেন। গণতন্ত্র তখনই কার্যকর হয়, যখন সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটায়, কল্যাণ বয়ে আনে।’