মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ পরিষদের ৩৮তম প্লেনারি সভায় ‘সমুদ্র আইন’ বিষয়ক এক আলোচনায় প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি জাতিসংঘের মহীসোপন সীমা বিষয়ক কমিশনে বঙ্গোপসাগরে বর্ধিত মহীসোপানে বাংলাদেশের সীমানা সংক্রান্ত সংশোধিত তথ্যাদি প্রদানের বিষয়টির উদাহরণ টেনে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘বর্ধিত মহীসোপানের নতুন সীমা ‘সুনীল অর্থনীতি’র সম্ভাবনাগুলোকে ঘরে তুলতে নতুন সুযোগ এনে দেবে। ’’
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিষয়ক বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে পেরেছে এবং এ সংক্রান্ত সংশোধিত তথ্যাদি জাতিসংঘে জমা দিয়েছে।
সমুদ্র বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো বিশেষ করে সমুদ্র-স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, ‘ক্রমাগত সমুদ্র স্তরের উত্থান সুপেয় পানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য ও জীবিকা সম্পর্কিত বিদ্যমান দুরবস্থাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যা এজেন্ডা ২০২০-এর সময়ানুগ ও কার্যকর বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’
যেহেতু সমুদ্র স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য মনুষ্য সৃষ্ট কর্মকাণ্ডই প্রধানত দায়ী, তাই এর সমাধানও মানুষকেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি।
এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমুদ্র আইন বিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশনের বিভিন্ন বিধিবিধান এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্যারিস চুক্তি সম্পর্কিত জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের সমন্বিত, সময়োপযোগী ও কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
দেশের সমুদ্রসম্পদের দক্ষ ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম জোন আইন’ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।
সমুদ্র এবং এর বিশাল সম্পদকে বিশ্বজনীন সম্পদ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা সমুদ্রসম্পদের ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর ব্যবহার, সমুদ্রসম্পদ সংরক্ষণ, সমুদ্র-পরিবেশ সংরক্ষণ ও সুরক্ষাসহ জাতীয় সমুদ্রসীমার বাইরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারকল্পে আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক আইনি দলিল প্রণয়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এই সভায় সামুদ্রিক মৎস্য এবং সমুদ্র আইন বিষয়ক দুটি রেজুলেশন গ্রহণ করে। বাংলাদেশ উভয় রেজুলেশনে সমর্থন জানায়।