বুধবার (৯ ডিসেম্বর) বিকালে পৃথক-পৃথক বিবৃতিতে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) শীর্ষ নেতারা এই দাবি জানান।
রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি চিনিকলে আখ মাড়াই বন্ধের সরকারি ঘোষণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, ‘আখ কাটার ভরা মৌসুমে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল- পাবনা সুগারমিল, শ্যামপুর সুগারমিল, পঞ্চগড় সুগারমিল, সেতাবগঞ্জ সুগারমিল, রংপুর সুগারমিল ও কুষ্টিয়া সুগারমিলে আখ মাড়াই ও উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মৌসুমের মাঝখানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের এই পদক্ষেপের ফলে লাখ লাখ একর জমিতে উৎপাদিত আখ নিয়ে দেশের আখ চাষিরা মহাবিপদের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে হাজার হাজার চিনিকল শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়েছে।’
রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি চিনিকল বন্ধের কারণে উত্তরাঞ্চলে আখের আবাদ একেবারে উঠে যাবে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। তারা বলেন, ‘মারাত্মক প্রভাব পড়বে ওই অঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্রের ওপরও। আখ প্রচণ্ড আঘাতসহিষ্ণু উদ্ভিদ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব মোকাবিলায় এর সক্ষমতা অন্য ফসলের চেয়ে অনেক বেশি।’
ন্যাপ নেতাদের অভিযোগ, স্বাধীনতার ৪৯ বছরে একটি চিনিকলকেও আধুনিকায়ন করা হয়নি। পণ্য বহুমুখীকরণের কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সুগারবিট থেকে চিনি উৎপাদন, কো-জেনারেশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং র-সুগার থেকে রিফাইন চিনি উৎপাদনের মতো প্রকল্পগুলো এখনও আলোর মুখ দেখেনি।
তারা বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে গরিব কৃষক ও মেহনতি শ্রমিকদের ভূমিকাই ছিল প্রধান। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও ১৯৫৪ সালের যুক্ত ফ্রন্টের নির্বাচন, ৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচনে দেশের মিল-কারখানার শ্রমিকরাই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।’
এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মনজু বলেন, ‘বিদেশ থেকে আমদানিকৃত নিম্নমানের চিনি খেয়ে মানুষের নানারকম অসুখ হচ্ছে আর খাঁটি চিনি উৎপাদনের কারখানা বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদেরকে পথে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনিতে করোনার কারণে দেশে বেকারের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিস্টেমের ভুলের কারণে যদি আরও বেকার বাড়ে তাহলে তা হবে দুঃখজনক।’