বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অন্তর্ভুক্ত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরি পরিবহন মালিকদের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শাজাহান খান। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্ঘটনা রোধ ও সড়ক শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে ১১১টি সুপারিশ করা হয়েছে জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, ‘আমরা বলেছি, কেবল সুপারিশ করলেই হবে না, বাস্তবায়নের জন্য টাস্ক ফোর্স গঠন করতে হবে। সেই টাস্ক ফোর্স গঠন হয়েছে।’ করোনা মহামারির জন্য গত কয়েক মাস বৈঠক করা যায়নি জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, বুধবার মাত্র দ্বিতীয় বৈঠক করা গেছে। ধীরে ধীরে সুপারিশ বাস্তবায়ন হচ্ছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দুর্ঘটনাও কমে আসবে।
চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাস চালকের ওপর দায় চাপায় জানিয়ে শ্রমিক নেতা শাজাহান খান বলেন, ওই ঘটনায় দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয় বাস চালক এককভাবে ওই ঘটনায় দায়ী নয়। কারণ তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের গাড়ির চালক আগের দুই রাত ঘুমানোরই সুযোগ পায়নি। শাজাহান খান বলেন, ‘রাস্তায় যে সাদা দাগগুলো আছে সেটা দুই ধরণের । একটা হচ্ছে সোজা বা টানা (কন্টিনিউয়াস) দাগ। তাকে অতিক্রম করা যাবে না। অন্যটি হচ্ছে- কাটাকাটা লাইন (ডিস কন্টিনিউয়াস)। সেখানে আপনি অতিক্রম করতে পারেন। তাহলে সেই লোকটা কন্টিনিউয়াস লাইকে ওভারটেক করে বাসের সঙ্গে আঘাত করলো। তার দায় দায়িত্ব কি বাসের ড্রাইভার এককভাবে নেবে?’
পরিবহন মালিকদের উদ্দেশ্যে শাজাহান খান বলেন, ‘আমাদের অনেক ত্রুটি রয়েছে। আমরা এক রেজিস্ট্রেশনে চার থেকে পাঁচটা গাড়ি চালাই। সেটা ট্রাক হোক বা বাস হোক। এই ত্রুটি কার? সরকারের না মালিকের? সেটা তো শ্রমিকের দায় না।… আপনার গাড়ির ট্যাক্স টোকেন নিবেন না, ফিটনেস নিবেন না। এর দায় তো চালক বা শ্রমিক নেবে না।’
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি রুস্তম আলী খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেড়ারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী খান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙা।