একনজরে করোনার হালনাগাদ চিত্র

করোনা টেস্ট (ছবি: ফোকাস বাংলা)

দেশে এখন পর্যন্ত (২৫ ডিসেম্বর) সরকারি হিসাবে করোনা শনাক্ত হয়েছে পাঁচ লাখ সাত হাজার ২৬৫ জনের। মারা গেছেন সাত হাজার ৩৯৮ জন। সুস্থ হয়েছেন চার লাখ ৪৮ হাজার ৮০৩ জন। শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শনাক্তের দিক থেকে বিশ্বে ২৭তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। বিশ্ব জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, করোনাতে মৃত্যুর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম, যা দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয়।

দেশে সংক্রমণের শুরুর দিকে ধীরগতি থাকলেও মে’র মাঝামাঝিতে দ্রুত ছড়াতে থাকে ও জুনে তীব্র আকার ধারণ করে। আগস্টের মাঝামাঝিতে সংক্রমণ কমতে শুরু করলেও নভেম্বরের শুরু থেকে আবার করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়।

২৪ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০ জন মারা গেছেন। একইসময়ে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ১৬৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ১১৩ জন।

মারা যাওয়া সাত হাজার ৩৯৮ জনের মধ্যে পুরুষ পাঁচ হাজার ৬৩৬ জন আর নারী এক হাজার ৭৬২ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ১৮ শতাংশ, আর নারী ২৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন চার হাজার ৪৪ জন।

ঢাকা বিভাগের পরে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে মোট মারা গেছেন এক হাজার ৩৭৯ জন, যা শতকরা হিসাবে ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। খুলনা বিভাগে মৃতের সংখ্যা ৫২২ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪৩১ জন। রংপুরে ৩৩৩ জন, সিলেটে ২৯০ জন, বরিশালে ২৩৬ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে মোট মারা গেছে ১৬৩ জন।

অপরদিকে, মারা যাওয়া সাত হাজার ৩৯৮ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন চার হাজার ২২ জন, যা শতকরা হিসাবে ৫৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রয়েছে এক হাজার ৮৮২ জন, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে আছেন ৮৭২ জন, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে ৩৭২ জন, ২১-৩০ বছরের মধ্যে ১৫৯ জন, ১১-২০ বছরের মধ্যে ৫৭ জন, এবং শূন্য-১০ বছরের মধ্যে ৩৪ জন।

চিকিৎসা ব্যবস্থা

রাজধানী ঢাকায় করোনা আক্রান্তদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে অধিদফতরের তালিকায় থাকা হাসপাতালগুলোতে সাধারণ শয্যাসংখ্যা ৩২৮৪টি। এর মধ্যে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন এক হাজার ৬২২ জন।

পুরো দেশে সাধারণ শয্যা ১০ হাজার ৫১০টি আর রোগী ভর্তি দুই হাজার ৫২৮ জন। সারা দেশে সাধারণ শয্যার শতকরা ৭৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ ফাঁকা রয়েছে।

অপরদিকে ঢাকা মহানগরীতে অধিদফতরের তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ রয়েছে ২৯০টি। যার মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ২০৪ জন আর শয্যা ফাঁকা রয়েছে ৮৬টি। পুরো দেশে আইসিইউ রয়েছে ৫৮২টি। এতে রোগী ভর্তি আছেন ৩০০ জন, ফাঁকা রয়েছে ২৮২টি।

রাজধানী ঢাকায় রোগীর চাপ বেশি হলেও অন্যান্য জায়গায় ফাঁকা আইসিইউর সংখ্যা বেশি। সারা দেশে আাইসিইউ ফাঁকা রয়েছে ৪৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৪০ শতাংশের উপসর্গ মৃদু, বাকি ৪০ শতাংশের উপসর্গ মাঝারি মাত্রার। তীব্র উপসর্গ আছে ১৫ শতাংশের, আর বাকি পাঁচ শতাংশের অবস্থা জটিল হয়। জটিল রোগীদের আইসিইউ শয্যার পাশাপাশি ভেন্টিলেটরেরও দরকার হয়।

করোনা রোগীদের জন্য বেশি জরুরি অক্সিজেন। সারাদেশে করোনা আক্রান্তদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে ১৩ হাজার ৫০১টি, হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা রয়েছে ৬৭৮টি আর সারাদেশে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আছে ৬৩৯টি। 

নুমনা পরীক্ষা চিত্র

মার্চে বাংলাদেশে সংক্রমণ শুরুর পর শনাক্তের একমাত্র উপায় ছিল আরটি-পিসিআর (রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ পলিমারেজ রিঅ্যাকশন) টেস্ট। পরীক্ষা বাড়ানো, দ্রুত শনাক্তসহ, আরটিপিসিআর টেস্ট ও আলাদা ল্যাবরেটরির সীমাবদ্ধতার কারণে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট-এর প্রয়োজনীয়তার কথা শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞরা বলে এসেছিলেন। সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটিও তাদের সভায় পিসিআর পরীক্ষার পাশাপাশি অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি টেস্ট কার্যক্রম চালুর পরামর্শ দেয়।

বর্তমানে দেশে সরকারি ৫১টি ও বেসরকারি ৬৩টি মোট ১১৪টি প্রতিষ্ঠানে আরটি-পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে করোনার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। আরটি-পিসিআরের মাধ্যমে করা নমুনা পরীক্ষাকেই করোনা পরীক্ষার ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ তথা সবচেয়ে ভালো উপায় মনে করা হয়।

গত ৫ ডিসেম্বর থেকে দেশের ১০টি জেলায় যেখানে আরটি-পিসিআর টেস্ট সুবিধা ছিল না, সেখানে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু হয়। পরে সেখানে যোগ হয় আরও ১৯ জেলা। সেই সঙ্গে জিন-এক্সপার্ট পরীক্ষার মাধ্যমেও করোনার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। সবমিলিয়ে দেশে ১৬৩টি পরীক্ষাগারে নমুনা এই পরীক্ষা হচ্ছে। পরীক্ষাগারগুলোতে এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থপনায় পরীক্ষা হয়েছে ২৫ লাখ দুই হাজার ৩৬৬টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থপনায় ছয় লাখ ৪৬ হাজার ৯৮২টি।

প্রবাসীদের আলাদা টেস্ট

দেশ থেকে যারা দেশের বাইরে যাবেন তাদের জন্য করোনার নমুনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়াতে তাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা হয়। রাজধানী ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত ডিএনসিসি মার্কেটে তাদের জন্য পৃথক বুথ করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, সিলেট ও নোয়াখালীতে বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। সরকারি ছাড়াও রাজধানী ঢাকার ১২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তাদের জন্য নমুনা পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে।