শীতে অচেনা করোনা


শাহজালাল বিমানবন্দরে করোনা শনাক্তের চেষ্টা

শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা থাকলেও বেশ কয়েকদিন ধরে দেশে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা কমছে বলে জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই তথ্য দিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা ঠিক হবে না। কারণ নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ার কারণে শনাক্ত কম হতে পারে।

শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৯ হাজার ৯১২টি। করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ৮৩৪ জন।  যা গত ৯ মে’র পর থেকে সর্বনিম্ন শনাক্ত। এর আগে ৯ মে শনাক্ত হন ৬৩৬ জন।

দেশে সংক্রমণের ৫১তম সপ্তাহের (১৩ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর) এর তুলনায় ৫২তম সপ্তাহে (২০ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর) করোনার নমুনা পরীক্ষা, শনাক্তের হার, সুস্থতার হার এবং মৃত্যুহার কমেছে।

শীতের শুরুতে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছিল। তবে ১০ ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ শনাক্তের হার ও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করে। ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই হাজারের নিচে থাকছে।

সংক্রমণ শনাক্তের হারও ১০ শতাংশের কম থাকছে, শনিবার শনাক্তের হার ছিল আট দশমিক ৪১ শতাংশ। গতকাল (২৫ ডিসেম্বর) ছিল আট দশমিক ৪৯ শতাংশ, ২৪ ডিসেম্বর ছিল ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ২৩ ডিসেম্বর ছিল আট দশমিক ৫৮ শতাংশ, ২১ ডিসেম্বর ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ২০ ডিসেম্বর আট দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং ১৯ ডিসেম্বর ছিল ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ।

নভেম্বরের শুরুতে রোগী শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী হলেও কেন হঠাৎ করে রোগী শনাক্ত কমে গেলো? জানতে চাইলে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শীতের সময়ে সবাই বলেছিল রোগী বাড়বে, কিন্তু আমি সব সময়ই বলে এসেছি শীতের সময়ে করোনা সংক্রমণ কমতে পারে। কারণ এই সময় ইনফ্লুয়েঞ্জা, প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা-থ্রি, রায়নো ভাইরাস এবং রেসপিরেটরি সিনসিডিয়াল ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়। শীতের সময় এসব ভাইরাসের কারণে মানুষ সর্দি, কাশি জ্বরে আক্রান্ত হয়। আর একটি ভাইরাস শরীরে থাকলে তখন আরেকটি ভাইরাস ঢুকতে পারে না—এটা আমার ধারণা। এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

তবে একইসঙ্গে পরীক্ষা কম হওয়ার কারণে, শনাক্ত কমে যাওয়ার আরেকটি বড় কারণ হতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৩৪ জন শনাক্ত হয়েছেন—এ সংখ্যা দিয়ে করোনার প্রকৃত অবস্থা বলা যাবে না মন্তব্য করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘রোগী খুঁজে বের না করলে কেবলমাত্র যারা পরীক্ষা করাতে আসছেন তাদের ওপর ভিত্তি করে মহামারির প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে না। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৩৪ জনের বিষয়ে কেবল, যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে কেবলমাত্র তাদের ভেতর থেকে এই রোগী শনাক্ত হয়েছে—এটুকুই বলা যায়, এর বেশি বলা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর মধ্যে এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি যার কারণে সংক্রমণ হঠাৎ কমতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টেস্ট করতে মানুষকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগীকে খুঁজে বের না করা, তার সংস্পর্শে আসাদের কোয়ারেন্টিন না করাসহ নানা কারণে মানুষ টেস্টে আগ্রহ হারিয়েছে। সব কিছুর ফলে নমুনা পরীক্ষার হার কম, এবং শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও তাই কম।’

প্রসঙ্গত, বর্তমানে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ২৭তম অবস্থানে আছে। আর বিশ্ব জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, করোনাতে মৃত্যুর তালিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম, আর দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয়।