সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের সুপারিশ

সংসদীয় কমিটির বৈঠককক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার সুপারিশ করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠক এ সুপারিশ করা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কক্সবাজারে একটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আছে। তাদের কাছে সমুদ্র সৈকতের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিলে পরিবেশ সুন্দর থাকবে।’

বর্তমানে এ জেলার ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) নেতৃত্বে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি সৈকতের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে।

কমিটির সভাপতি বলেন, ‘বর্তমানে দলীয় লোকজন নিজেদের মতো করে সমুদ্র সৈকত চালায়। এটাতো হতে পারে না।  বিশ্বের মধ্যে অন্যতম একটা সৈকত, সেটা নোংরা হয়ে থাকে।  চেয়ারে বসতে নিজেদের মতো করে ভাড়া তোলে। কোনও শৃঙ্খলা নেই। আগেও কমিটি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। আমরা দ্রুত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে বিচের ম্যানেজমেন্ট তুলে দিতে বলেছি।’

সংসদীয় কমিটির কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পর সমুদ্র সৈকতের দায়িত্ব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়।  কিন্তু বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ‘বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বহাল থাকায় এ নিয়ে দ্বৈততা সৃষ্টি হচ্ছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছেও এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে একটি চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেল থেকে অনুমোদন দেওয়া ঝুপড়ি দোকান, বিচ বাইক ইত্যাদির কারণে সৈকতের আবর্জনা বাড়ছে। ফটোগ্রফারদের ‘দৌরাত্ম্য’ বেড়ে গেছে বলেও জানানো হয় ওই চিঠিতে।

কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী একটি কর্তৃপক্ষের কাছেই বিচের ম্যানেজমেন্ট থাকা দরকার। এজন্যই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছি। সৈকত তো যেমন-তেমন চলতে পারে না।’

বৈঠকে ঢাকার ‘রমনা পার্কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রমনা পার্কের লেকসহ সার্বিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের পূর্বের অনুমোদিত মূল নকশা অনুযায়ী দ্রুত  বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়। গত মাসেও কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়।

কমিটি বস্তিবাসীদের জন্য মিরপুরে ভাড়াভিত্তিক প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন ও আরও নতুন প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করে।

মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য নারায়ন চন্দ্র চন্দ, বজলুল হক হারুন, মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং আনোয়ারুল আশরাফ খান অংশ নেন।