করোনার ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন করতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ‘সুরক্ষা’ অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম। একইসঙ্গে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দেশের সব জেলায় করোনাভাইরাসের টিকা পৌঁছে যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীতে নিপসম মিলনায়তনে ‘পোস্ট মনসুন এডিস মসকিউটো সার্ভে-২০২০ রিপোর্ট ডেসিমিনেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ভ্যাকসিনের নিবন্ধনের জন্য সুরক্ষা প্ল্যাটফর্মের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন (www.surokkha.gov.bd) সীমিত আকারে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই অ্যাপটি মোবাইল ফোনে পাওয়া যাবে বলে আইসিটি মন্ত্রণালয় আমাদের জানিয়েছে। এরইমধ্যে সেটা গুগল প্লে স্টোরে দিয়ে দেওয়া হবে।’ আগামী সোমবারের (৫ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে দেশের সব জেলায় করোনা ভাইরাসের টিকা পৌঁছে যাবে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বলেন, ‘টিকা বিতরণের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আজকালের মধ্যে দেশের সব জায়গায় টিকা পৌঁছে যাবে। আর দেরি হবে না এটুকুই বলতে পারি। ভ্যাকসিন দেওয়ার কেন্দ্রগুলোতে বুথ তৈরি করা হয়েছে। যারা ভ্যাকসিন দেবেন তাদের এবং স্বেচ্ছাবেকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।’
আগামী সোমবার সব জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের ফোকাল পারসনদের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মিটিং রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের কাছ থেকে একটা ফিডব্যাক নেবো যে,তারা কী কী সমস্যা ফিল করছেন, সেগুলো আমরা ঠিক করে দেবো। তবে যারা অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন না, তাদেরকে স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে।’ তিনি বলেন, ‘স্থানীয় আইসিটি কার্যালয়ের কর্মীদের সহায়তায় স্বাস্থ্য বিভাগ রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।’
অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, ‘প্রত্যেকটি উপজেলায় ইন্টারনেট কানেকশনসহ ল্যাপটপ দেওয়া আছে। আমরা একটা চিন্তা করেছি, যারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না, স্থানীয় আইসিটির লোক আছে, তাদের সহায়তায় নিবন্ধন করে দেওয়া হবে। টিকা দেওয়ার আগে এলাকায় ঘোষণা দিয়ে দেওয়া হবে, যার যখন সুবিধামতো রেজিস্ট্রেশন করে যান। যদি ১০০ জনের রেজিস্ট্রেশন হয়ে যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা একটা তারিখ দিয়ে দেবো। ওই ১০০ জন ওই তারিখে এসে টিকা নেবেন। রেজিস্ট্রেশন হবে অনলাইনেই, আমাদের লোকজন হেল্প করবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ২৬ জনকে টিকা দেওয়ার মধ্যদিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এর উদ্বোধন করেন। পরের দিন ২৮ জানুয়ারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে আরও চারটি হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়া হয়।
আগামী সাত ফেব্রুয়ারি জাতীয়ভাবে সারাদেশে টিকা দেওয়া শুরু হবে। আর টিকা নিতে আগ্রহীদের ‘সুরক্ষা’ অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে।