টিকাদান কেন্দ্রে নিবন্ধনের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি

‘নিবন্ধন পরে হলেও চলবে, কিন্তু টিকা নিতে হবে আগে। নিবন্ধন জরুরি, কিন্তু তার চেয়েও জরুরি টিকা নেওয়া’ —গত ৫ ফেব্রুয়ারি  বাংলা ট্রিবিউনকে এমনটি জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।। কিন্তু পরদিন (৬ ফেব্রুয়ারি) ভ্যাকসিন বিষয়ক প্রস্তুতি বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ বক্তব্য নাকচ করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সে উপলক্ষে স্বাস্থ্য অধিদফতরে উপস্থিত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আবার তার বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন। আর স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, তারা এখনও কর্মকৌশল ঠিক করতে পারেনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক রবিবার বলেন, টিকা নিতে হলে অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত করতে হচ্ছে। যদি ওই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত হতে কষ্ট হয় আমাদের আরও নির্দেশনা আছে, ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ের তথ্য সেন্টারে তারা নিবন্ধিত হয়ে টিকা নিতে পারেন। তাও যদি না পারেন তাহলে তারা কেন্দ্রে গিয়ে ফর্ম ফিলাপ করে টিকা নেবেন। পরবর্তীতে যে ফর্ম এন্ট্রি করা হবে। অর্থাৎ কেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন না নিয়ে কেউ ফেরত যাবে না-আমাদের এটাই লক্ষ্য।

কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, কীভাবে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে, কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিবন্ধনের সুযোগে কীভাবে তৈরি করা যাবে, এ বিষয়ে এখনও অধিদফতর কর্মকৌশল ঠিক করতে পারেনি। 

জাতীয়ভাবে টিকাদান শুরুর প্রথমদিনে মহাখালীতে অবস্থিত শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে টিকা নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। টিকা নেবার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতে বসবাসকারী মানুষকেও টিকার আওতায় আনার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দূর-দূরান্ত গ্রামে যারা বসবাস করে তাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের নিবন্ধন করার জন্য নিয়ে আসতে ডিসি, এসপি সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা এ ব্যাপারে সহায়তা করবেন।

ডিসির নেতৃত্বে সিভিল সার্জন, পুলিশের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করবেন যেন এসব মানুষ নিবন্ধন করতে পারেন। নিবন্ধন করবেন এবং টিকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেবেন। এ ধরনের ব্যবস্থা আমরা করেছি এবং নির্দেশনাও দেওয়া হয়ে গেছে।

শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউটে টিকা নেওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার কাছে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চান।

অধ্যাপক সেব্রিনা ফ্লোরা উত্তরে বলেন, এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা তারা পেয়েছেন। তবে নিবন্ধনের আগে টিকা দিলে কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে, সেজন্য স্বাস্থ্য বিভাগ নিবন্ধন করেই টিকা দিতে চায়।

তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে টিকা দিতে চাই নাহলে সমস্যা হবে। তবে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে টিকা নিতে এসে কেউ যেন ফিরে না যায৷ তবে কবে থেকে অনস্পট রেজিস্ট্রেশন হবে তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি রেজিস্ট্রেশন ছাড়া টিকা দেওয়া হয় তাহলে যিনি টিকা নেবেন তার জন্যও সমস্যা হবে। এছাড়া আমরা যখন টিকা দেব, সেক্ষেত্রে কত ডোজ টিকা লাগবে, কারা আসবে, লজিস্টিকস সাপ্লাই- এসব একটা বড় চ্যালেঞ্জের জায়গা। তারপরও যারা অনেক দূর থেকে এসেছেন, আরেকদিন আসা কঠিন হবে, তাদের জন্য হয়ত আমরা স্পটে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করতে পারি। যারা টিকা নিতে আসবেন তারা যেন ফেরত না যান, সেজন্য আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে টিকা নেওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হবে না। তাই যারাই টিকাদান কেন্দ্রে আসবেন, তিনি নিবন্ধন করুন বা না করুন, তাকে টিকা দেওয়া হবে’।

তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন করা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে ভ্যাকসিনে দেওয়া। রেজিস্ট্রেশন পরেও হতে পারে। ফর্ম ফিলাপ করে সই রেখে দেওয়া হলো, পরে সেটা কম্পিউটারে তালিকাভুক্ত করা হলো, ডাটা এন্ট্রি হয়ে থাকলো। সেটার জন্যও আলাদা ব্যবস্থা করতে বলেছি।

কিন্তু এ বিষয়ে জানতে চাইলে ( ৬ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘নিবন্ধন না করে টিকা নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’

টিকাদান কেন্দ্রে কেউ এলে তাকে টিকা দেওয়া হবে, টিকা দেওয়া ছাড়া তাকে ফেরত দেওয়া হবে না’-স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সেদিন ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, এটা আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখবো। তবে আমরা বলতে চাই, প্রি-রেজিস্ট্রেশন লাগবে, প্রি-রেজিস্ট্রেশন না করে যদি এভাবে টিকা দিতে যাই, তাহলে তিনি পরবর্তী ডোজ কখন পাবেন সে বিষয়ে ভুল হতে পারে।