কোভিড পরিস্থিতির কারণে এবার ফেব্রুয়ারির বইমেলা শুরু হবে মার্চে। বাকি মাত্র চারি দিন। প্রকাশনীগুলোকে যার যার স্টল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে এখন স্টল সাজানোর কাজ চলছে জোরেশোরে। এরই মধ্যে শনিবার (১৩ মার্চ) বিকালে হওয়া ঝড় তারপরেই স্বল্প সময়ে তুমুল বৃষ্টি। ফলাফল স্টলে পানি, গাছের জাল ভেঙে উড়ে এসে পড়েছে চালে। সাধারণত এইসময় থেকে শুরু করে পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত বড় বড় কয়েকটি ঝড় আসে। তাহলে এবার কি মেলাতে বৃষ্টিতে ভেজা বই শুকাতে হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রকাশকরা বলছেন, মেলায় এবার তেমন কোনও উত্তেজনা নেই। কোভিডে সংক্রমণ বাড়ছে, এর প্রভাব পড়বে মেলায়। একুশে বইমেলা তো কেবল ব্যবসা না। ভাঙা মাসে মেলা জমার বিষয়ে খুব আশান্বিত হতে পারছেন না তারা। গত দুই বছর রাতের বেলা হওয়া ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল লাখ টাকার হই। এবার কালবৈশাখী মৌসুমে সেই ঝড় না জানি কতবার আসে। ফলে বিনিয়োগ নিয়েও সতর্ক তারা। আবার বড় প্রকাশনা এসব দেখে এবার মেলায় যোগ দেয়নি এমন উদাহরণও আছে। বাংলা একাডেমি বলছে, বৃষ্টির বিষয়টি মাখায় রেখে মেলা প্রাঙ্গণ প্ল্যান করা হয়েছে।
জাগৃতির সত্ত্বাধিকারী রাজিয়া রহমান জলি ফেসবুকে বৃষ্টিতে বিপাকে মেলা কারিগররা ভিডিও শেয়ার করেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথম বৃষ্টির ছাট, প্রথম ঝড়কে পাওয়া নিয়ে আজকে সবার ফেসবুক পোস্টগুলোকে কাব্যিক করেছে। কিন্তু এই ঝড়-বাদলের দিনে মাসব্যাপী বইমে লাকতটা কাব্যিক হবে সেই শঙ্কা নিয়েই মেলায় যোগ দিয়েছি। আবার এও ভাবছি, কোভিডের বাড়ন্ত সময়ে। জনসমাগম অ্যালাও করবে কেন সরকার?’
এবার মেলায় যোগ দিচ্ছে না শ্রাবণ প্রকাশ। কারণ বলতে গিয়ে সত্ত্বাধিকারী জানান, এবার মেলা করছি না। একেতো করোনা, তারওপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ একবছর। বই কিনবে কারা? এদেশের বড় লোকরা বই কেনে না। তার ওপর ঝড় বৃষ্টি তো হবেই। তাই মেলায় গেলাম না।
মার্চে ঝড়-বৃষ্টি থাকেই সেটা আমরা জানি উল্লেখ করে বিশিষ্ট লেখক ও দিব্য প্রকাশের প্রকাশক মইনুল আহসান সাবের বলেন, ‘বিষয়টি জেনেই মার্চে মেলা হওয়ার ব্যাপারটা আমরা মেনে নিয়েছি। আমরা এও জানি কয়েকটি দিন হয়তো ভেসে যাবে। প্রকাশকরা সম্ভবত এ নিয়ে হতাশ। কিন্তু যেটা আমরা আগে থেকেই জানি, সেটা নিয়ে নতুন করে হতাশার কিছু নেই। আমার মেলায় অংশ না নেওয়ার অধিকার ছিল। আবার ফেব্রুয়ারিতেও মেলা হওয়ার সুযোগ ছিল না।’
জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির অতিরিক্ত নির্বাহী খন্দকার সোহেল মনে করেন, এবারের মেলাটি কেবল নিয়ম রক্ষার।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেলা থেকে পেছন ফেরাটা আমি কোনোভাবেই সঠিক মনে করি না বলে যুক্ত আছি। প্রকাশকদের মধ্যে মেলাকে ঘুরে যে উদ্যোম, যে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে সেসব নেই। আর আপনাকে পুরো বিষয়টি চোখের সামনে দেখতে হচ্ছে। মেলা শুরুর আগে আজকে যেই ঝড়, পানিতে ভোসে যাওয়ার ঘটনাগুলো ঘটার ফলে অন্তত বৃষ্টির শঙ্কার কথা আরেক দফা মনে পড়লো।’