আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পাঁচ দশমিক এক শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক বলছে, যতটা আশা করা হয়েছিল তার চেয়েও বেশি প্রবাসী আয় আসায় চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে তিন দশমিক ছয় শতাংশ। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ছয় দশমিক দুই শতাংশ।
দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার (৩১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে।
যদিও গত জানুয়ারির প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এক দশমিক সাত শতাংশ হবে বলে প্রক্ষেপণ দিয়েছিল।
ভারত সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১০ দশমিক ১ শতাংশ। গত জানুয়ারির প্রতিবেদনে এই প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হওয়ার প্রক্ষেপণ দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক বলেছে, নেপালে ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। আর পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এটা হতে পারে ২ শতাংশ। গত জানুয়ারির প্রতিবেদনে পাকিস্তানের জন্য শূন্য শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, কোভিড-১৯ মহামারিতে জিডিপির রেকর্ড পতনের পর টিকাদান কর্মসূচির ওপর ভর করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো আগামী অর্থবছরে ঘুরে দাঁড়াতে চলেছে।
এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি দুই দশমিক চার শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সাময়িক হিসাব অনুযায়ী সরকার প্রবৃদ্ধি ধরেছিল পাঁচ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব এখনও তৈরি করা হয়নি।
২০২১ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এর পরের বছর প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এই অঞ্চলের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।