নারী নেতৃত্বের অবস্থা জানতে রাজনৈতিক দলকে চিঠি দেবে ইসি

রাজনৈতিক দলে নারী নেতৃত্বের সর্বশেষ অবস্থা জানতে নিবন্ধিত দলগুলোকে চিঠি দেবে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনের ৭৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, ‘আজকের বৈঠকে রাজনৈতিক দলের শর্তপূরণের বিষয়টি এজেন্ডায় ছিল। এ বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দেওয়ার। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের শর্ত অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে সকল রাজনৈতিক দলের  নারী নেতৃত্ব ৩৩ শতাংশ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা ছিল। এক্ষেত্রে দলগুলোর সর্বশেষ কী স্ট্যাটাস, কমিশন দলগুলোকে চিঠি দিয়ে তার তথ্য নেবে।’

এর আগে নির্বাচন কমিশন ২০১৮ সালে নিবন্ধিত দলগুলোকে চিঠি দিয়ে তাদের নারী নেতৃত্বের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছিল। ওই সময় বেশিরভাগ দল ইসিকে চিঠি দিয়ে  তাদের অবস্থা জানানোর পাশাপাশি ২০২০ সালের মধ্যে শর্তপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আবার কোনও কোনও দল সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিল।

এদিকে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য ৩৩ শতাংশের শর্ত পূরণের সময় বাড়াতে নির্বাচন কমিশন আইন সংশোধনী খসড়া করেছে। ওই খসড়ায় নারী নেতৃত্বের ৩৩ শতাংশ নিশ্চিত করার সময় ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

দ্বৈত ভোটারের শুনানি মাঠ পর্যায়ে

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে দ্বৈত ভোটারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং বিকল্পভাবে নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে বৈঠকে মাঠ পর্যায়ে কমিটি করে শুনানির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক দেবনাথ জানান।

তিনি বলেন, ‘অনেকে না বুঝে সরল বিশ্বাসে দ্বৈত ভোটার হয়েছেন, আবার অনেকে অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে দ্বৈত ভোটার হয়েছেন। এজন্য মাঠ প্রশাসন থেকে কমিশন বিষয়টি যাচাই বাছাই করবে। এক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি দ্বৈত ভোটারের বিষয়টি যাচাই বাছাই করবে। সরল বিশ্বাসে কেউ দ্বৈত ভোটার হলে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। আর অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ ভোটার হলে ওই কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত সচিব জানান, কাদের সমন্বয়ে কমিটি হবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে কমিটি হবে। এ বিষয়ে কমিশনের এনআইডি উইং একটি খসড়া প্রস্তাবনা তৈরি করবে। সেটা অনুযায়ী কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।