মেধাস্বত্ব নিয়মাবলি থেকে ১৩ বছরের জন্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অব্যাহতি

স্বল্পোন্নত দেশগুলো ২০৩৪-এর জুলাই পর্যন্ত বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট মেধাস্বত্ব সাধারণ প্রভিশন থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। এর ফলে আগামী ১৩ বছর যেকোনও ধরনের প্যাটেন্ট, কপিরাইট বা অন্যান্য মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত নিয়মাবলি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে না। গত নয় মাস বাংলাদেশের নেতৃত্বে স্বল্পোন্নত দেশগুলো তীব্র আপস-আলোচনার পরে মঙ্গলবার জেনেভাতে ট্রিপস কাউন্সিলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেনেভায় রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এটি সহজ কাজ ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ অন্যান্য ধনী দেশগুলো এই দীর্ঘ সময় দিতে রাজি ছিল না।’

বাংলাদেশ সব সময় স্বল্পোন্নত দেশসমূহের পক্ষে বিভিন্ন দর কষাকষিতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসছে এবং এবারও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় ওই জোটের অন্য দেশগুলোকে হতাশ করেনি ঢাকা বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘ধনী রাষ্ট্রগুলো আট বছর পর্যন্ত এই সুবিধা বর্ধিত করতে রাজি ছিল কিন্তু বাংলাদেশসহ অন্যরা চেয়েছিল যতদিন একটি দেশ স্বল্পোন্নত অবস্থায় থাকবে ততদিন পর্যন্ত যেন এই সুবিধা বলবৎ থাকে। অনেক দেনদরবার ও আলোচনার পর শেষদিনে সবাই ১৩ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা কার্যক্রম শুরু করার সময় স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য ১০ বছরের ট্রিপস অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হয়, যা পরে দুই দফায় ১৫ বছর বৃদ্ধি করে ২০২১-এর ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের নেতৃত্বের সবাই প্রশংসা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ আজকে সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করে।’

তিনি বলেন, ভারত, চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে আমরা সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করেছি এবং তারা আমাদের প্রথম থেকে সমর্থন দিয়েছিল।

বাংলাদেশ কতটুকু সুবিধা পাবে

২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ হবে। যেহেতু আজকের সিদ্ধান্ত শুধু স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য, সে জন্য ২০২৬-এর পরে বাংলাদেশের এই সুবিধা পাওয়ার কথা নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা হাল ছেড়ে দেইনি। বাংলাদেশ বা অন্য যেকোনও দেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ হলেই যেন সব সুবিধা বাতিল না করা হয় সেই বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব আমরা ইতোমধ্যে দিয়ে রেখেছি।’

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা ভালো করে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাচ্ছি এবং সেজন্য যদি সব সুবিধা বাতিল করা হয় তবে সেটি হবে আমাদের শাস্তি দেওয়ার শামিল। এ বিষয়টি নিয়ে জেনারেল কাউন্সিলে আলোচনার পরে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, নতুন প্রস্তাবের ওপর যে আলোচনা চলছে সেখানেও নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর দেবব্রত চক্রবর্তী বলেন, এই আলোচনার সিদ্ধান্ত কবে হবে সেটি বলা মুশকিল। তবে আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে আলোচনাটি জিইয়ে রাখা, যাতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে টেকসই উত্তরণ সম্ভব হয়।