জিয়াউর রহমান দেশে কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

জিয়াউর রহমান দেশে কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছিলেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘৭৫ সাল থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত কারফিউ দিয়েছিলো বিএনপি। জিয়াউর রহমান দিয়েছিলো কারফিউ গণতন্ত্র। তখন অনেকগুলো দল গঠনের সুযোগ দিয়েছিলো এটা ঠিক কিন্তু সেখানে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ ছিলো না।’

শনিবার (৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের চলতি ১৩তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির এমন একটি দল যে দল সৃষ্টি করেছে একজন সামরিক জান্তা। ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার যে পরিকল্পনা হয় তার মূল শক্তি ছিল এই জিয়াউর রহমান। খুনি কর্নেল রশিদ এবং ফারুক বিবিসিকে দেওয়া তাদের ইন্টারভিউতে এটি স্পষ্ট রয়েছে। জিয়াউর রহমান তাদের সঙ্গে না থাকলে কোনদিনও এই ষড়যন্ত্র করতে পারত না। কারণ জিয়াউর রহমান ছিল উপ-সেনাপ্রধান।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পর খালেদা জিয়াকে ঘরে নিতে চাননি। কারণ তার আরেকটি ঘটনা আছে সেটা আমি জানি। ওই সময় জিয়াউর রহমান ছিল কুমিল্লায়। তখন তাকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় এবং উপ-সেনাপ্রধান করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তাকে উপ-সেনাপ্রধান করেন। ওই সময় তাকে প্রমোশন দিয়ে মেজর থেকে মেজর জেনারেল করেন বঙ্গবন্ধু। আর সেই জিয়া-ই ষড়যন্ত্র করে মুস্তাক, কর্নেল রশিদ ফারুককে নিয়ে। মোস্তাক যখন অবৈধভাবে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে জিয়াউর রহমানকে করে সেনাপ্রধান। সেই মোস্তাককে হটিয়ে জিয়াউর রহমান নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেয়। জিয়া ছিল একদিকে সেনাপ্রধান আরেকদিকে দেশের রাষ্ট্রপতি। এর আগে আইয়ুব খান এই একই দৃষ্টান্ত দেখিয়েছিল।

বিএনপি গঠনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে আবার রাজনীতিবিদ হন। উর্দি পরে ক্ষমতায় এসে পরে রাজনীতিতে নাম লেখান। সেখান থেকে পরে রাজনৈতিক দল গঠন করে। সেই দলই হলো বিএনপি। বিএনপি মানে বাংলাদেশ না পাকিস্তান হ্যাঁ এইতো? বিএনপি। এই হল তাদের রাজনীতি, এই হল তাদের গণতন্ত্র। প্রতিরাতে কারফিউ, ১৯৮১ সালে যখন বাংলাদেশে আসি তখনই কারফিউ। ৭৫ সাল থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত কারফিউ দিয়েছিলো বিএনপি। জিয়াউর রহমান দিয়েছিলো কারফিউ গণতন্ত্র। অনেকগুলো দল গঠনের সুযোগ দিয়েছিলো এটা ঠিক কিন্তু সেখানে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ ছিলো না। আর নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই নির্দিষ্ট থাকতো। ৭৮ সালে হ্যাঁ না ভোট, ৭৯ সালে নির্বাচন সবই ছিল খেলা।

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য বলেছেন কুরআন শরীফে নাকি ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলা নেই। আমি বলব অবশ্যই আছে। আমাদের নবী করীম (সা.) বলেছেন অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল হতে। তিনি এই শিক্ষা দিয়েছেন। আমাদের কুরআন শরীফে বলা হয়েছে, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম সকল ধর্মের মর্যাদা দেয়। কোরআন শরীফে আছে লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়াদিন অর্থাৎ যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। যার যার মতামত সে প্রকাশ করবে। এটা প্রকৃতপক্ষে ধর্ম নিরপেক্ষতাই আসে। যতই তিনি অস্বীকার করুন, যেভাবে তিনি ব্যাখ্যা দেন। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। যুগ যুগ ধরে এটা চলছে। হ্যাঁ, অবশ্যই নিজের ধর্ম পালনে সবসময় গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল থাকতে হবে। এটা আমাদের শিক্ষা। এটা নবী করিম (সা.) সবসময় বলে গেছেন। কাজেই এ ধরনের কথা সংসদে না বলাটাই ভালো।’