ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী হাফেজ মাসুদুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় থানা ঘেরাওয়ের পর রেল স্টেশনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তার সহপাঠীরা। এছাড়াও রেল স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর করে রেললাইন উপড়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে রেলপথ অবরোধ করেছে তারা। এছাড়াও মাসুদ নিহত হওয়ার ঘটনায় বুধবার শহরজুড়ে হরতালও ডেকেছে তারা।
মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে শহরের মৌড়াইল রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ কারণে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় শহরের জেলা পরিষদ মার্কেটের একটি দোকানে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার এক ছাত্রের সঙ্গে মোবাইল কেনা নিয়ে বচসার জের ধরে মোবাইল ব্যবসায়ী-মাদ্রাসা ছাত্র ও ছাত্রলীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় মাসুদুর রহমান নামের ওই মাদ্রাসা ছাত্রটি গুরুতর আহত হন। মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হলে ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে আসে তার সহপাঠীসহ অন্য মাদ্রাসা ছাত্ররা। এঘটনায় প্রথমে তারা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পরে আরও সংগঠিত হয়ে থানা ঘেরাও করতে যায়। এসময় থানায় তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে তারা ওসির কার্যালয় লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়তে থাকে। পরে ছাত্ররা মিছিল করতে করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে প্রবেশ করে এবং এলোপাতাড়িভাবে স্টেশনে হামলা চালাতে থাকে।এসময় স্টেশনের টিকেট বিক্রির জন্য ব্যবহৃত কম্পিউটার, ৮টি সিসি ক্যামেরা, স্টেশন মাস্টারের কক্ষের যাবতীয় আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম তছনছ ও ভাঙচুর করে রেললাইন উপড়ানো শুরু করে মাদ্রাসা ছাত্ররা। এর আগেই আগামীকাল বুধবার শহরজুড়ে হরতালের কর্মসূচিও দেয় মাদ্রাসা ছাত্ররা।
ছাত্রদের হামলার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাঘাচঙ রেলস্টেশনে, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস আজমপুর রেলস্টেশনে এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশনে আটকা পড়েছে।
ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মারা যাওয়া মাসুদুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্রামের ইলিয়াস আহম্মেদের ছেলে।
এদিকে মাদ্রাসা ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা শহরে টহল দিচ্ছেন। এছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে একাধিক পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বিজিবির ১২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নজরুল ইসলাম বিজিবি মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, পুলিশ সদস্যদের সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
/এসএম/টিএন/