জনপ্রতিনিধিদের মতে, হকার সমস্যার মূলে রয়েছে চাঁদাবাজি। এর ভাগ রাজনীতিক ও পুলিশের কতিপয় দুর্নীতিবাজের পকেটে যায়—এটা আজ ওপেন সিক্রেট। বিষয়টাকে খোলাসা করে না বললেও ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ইতোমধ্যে আকারে-ইঙ্গিতে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলেও ফেলেছেন। এতে কারও টনক নড়ছে না। বরং কখনও হকার পুনর্বাসন, কখনও মানবিকতার কারণ দেখিয়ে রাস্তা-ফুটপাতকে যানবাহন ও পথচারীদের ব্যবহারের অনুপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
এমনই অবস্থায় বুধবার এক যৌথ সভার আয়োজন করে ডিএসসিসি। নগরভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় মেয়র সাঈদ খোকন অসন্তোষের সুরেই বলে ফেললেন, রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে আমাদের প্রচেষ্টার শেষ নেই। এ জন্য নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু সকালে উচ্ছেদ করে বিকালে গিয়ে দেখি ফুটপাত-রাস্তা সেই আগের মতোই দখল হয়ে আছে।
সভায় উপস্থিত দুই পুলিশ কর্মকর্তার উদ্দেশে মেয়র বলেন, বাস-মালিক ও শ্রমিকরা কী করলে গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া ও সায়েদাবাদ এলাকায় সুন্দর ট্রাফিক সিস্টেম চালু করতে পারবেন? জবাবে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) খান মো. রেজওয়ান যানজটের নেপথ্যে যানবাহনের বিশৃঙ্খলাকে দায়ী করে বলেন, বাবুবাজার থেকে উত্তরা পর্যন্ত রাস্তায় বাস বে’ (গণপরিবহনের থামার নির্ধারিত স্থান) নেই। এ কারণে বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করে। রাস্তায় প্রচুর রিকশা চলছে। প্রাইভেট কারও অনেক বেশি।
পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য শেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, সমস্যার কথা আমরা জানি। যানজট কিভাবে দূর করা যায়, সেটা সুনির্দিষ্টভাবে বলুন। প্রস্তাব দিন।
ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খালিদ আহমেদ বলেন, গত পরশু দুপুরে গুলিস্তান ও বাবুবাজার এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করি। বিকেলে গিয়ে যেখানে অভিযান চালিয়েছিলাম, সেখানে আবারও হকার বসে গেছেন। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট হলো সাময়িক। মোবাইল কোর্টের অভিযানের পর রাস্তা ও ফুটপাত মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু পুলিশ যদি দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে তো কোনও অভিযানেই উপকার পাওয়া যাবে না।
পুলিশের উদ্দেশে মেয়র বলেন, আমরা অভিযানের মাধ্যমে রাস্তা ক্লিন করে আসার পর আপনারা তো দায়িত্ব নিতে পারেন।
জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা খান মো. রেজওয়ান মানবিক কারণের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, আসলে পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করতে গেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
মেয়র বলেন, আমরা আপাতত ফুটপাত নিয়ে কিছু বলছি না। আপনাদের শুধু রাস্তা খালি রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, মানবিক কারণের দোহাই দিয়ে সমস্যা থেকে পার পাওয়া যাবে না। পুলিশ যদি ঠিক থাকে, তাহলে কোনও রাস্তা দখল হবে না।
মন্ত্রীর এ কথায় টেবিলে হাত চাপড়ে সমর্থন দেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা। এ সময় ফুলবাড়িয়ার এক পরিবহন নেতাকে বলতে শোনা যায়, হকাররা যদি চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দেন, তাহলে এক সেকেন্ডও রাস্তায় থাকতে পারবেন না। তখন এই মানবিকতা কোথায় যাবে?
প্রসঙ্গত, সভায় উপস্থিত ছিলেন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক, রেল সচিব, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও। সভায় সায়েদাবাদ টার্মিনাল সংলগ্ন রাস্তায় দূরপাল্লার কোনও বাসকে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়ে ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, দূরপাল্লার বাস চলবে টার্মিনালের ভেতর থেকে। পরিবহন কোম্পানিগুলোকে সর্বোচ্চ দুটি টিকিট কাউন্টার রাখতে দেওয়া হবে। গুলিস্তানের রাস্তা হকারমুক্ত করতে হবে। ফুলবাড়িয়া স্টপওভার টার্মিনালের বাস পাশ্বর্বতী আনন্দবাজার বস্তির খালি জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করা হবে। সড়কের ওপর কোনও বাস দাঁড়াতে পারবে না। এ জন্য পুলিশকেও দায়িত্ব নিতে হবে।
/এমএনএইচ/