‘১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড একটি আদর্শকে হত্যার ব্যর্থ প্রচেষ্টা’

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে খুনিরা একটি আদর্শকে হত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড কোনও ব্যক্তি বা পরিবারকে হত্যাকাণ্ড নয়। একটি আদর্শকে হত্যা করার প্রচেষ্টা। বঙ্গবন্ধুর যে আদর্শ ‘মুজিববাদ’, সেই আদর্শকে তারা হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু খুনিরা ব্যর্থ হয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে তারা হত্যা করতে পারেনি।’

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট০) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আয়োজিত ‘১৫ আগস্ট: ইতিহাসের নির্মম হত্যাকাণ্ড’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ঘাতকরা মনে করেছিল সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ফেললে নাম নেওয়ারও কেউ থাকবে না। আজকে সারা বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ জায়গায় বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দোয়া মাহফিল হয়েছে। গণভোজ হয়েছে। জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত বঙ্গবন্ধু অনেক বেশি শক্তিশালী। কারণ তার একটা আদর্শ ছিল। খুনিরা হত্যা করতে পারেনি বাংলাদেশকে, দেশের সংবিধানকে।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন রাজনীতি করেছেন তখন বিশ্বে দুটি রাজনৈতিক পরাশক্তি ছিল। সাম্রাজ্যবাদীদের মোড়ল আমেরিকা এবং কমিউনিজমের মোড়ল চিন-রাশিয়া। সাম্রাজ্যবাদীদের কথা ছিল আমাদের ভাত কাপড়ের দরকার নেই, ভোটের অধিকার দাও, কথা বলার অধিকার দাও তাহলেই হবে। কমিউনিজম বিশ্বাসীরা বললো, ভাত-কাপড় দিলেই হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার, কথা বলার অধিকার কিছুই দরকার নেই। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন গণতন্ত্রের বিনিময়ে ভাতের অধিকার ত্যাগ করতে পারবো না। আবার ভাতের বিনিময়ে গণতন্ত্রকে ত্যাগ করতে পারবো না। আমার দুইটাই দরকার। এটাই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর নতুন মতবাদ। ’

জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘জিয়ার লাশ নিয়ে মির্জা ফখরুল বললেন, কফিনের ঢাকনা কাঁচের ছিল, তিনি সেটি দিয়ে লাশ দেখেছেন। আরেকজন আরেকটু এগিয়ে বললেন, ড. তোফায়েল তার পোস্টমর্টেম করেছেন। তাহলে পোস্টমর্টেমের যে রিপোর্ট আছে তা বের করেন। তারপর পত্রিকায় ছাপিয়ে দেন। তা না হলে বলবো মিথ্যাচার করছেন। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, জিয়াউর রহমানের লাশ পাওয়া যায়নি। এখানে (চন্দ্রিমা উদ্যান) নাকি লাশ এনে দিয়েছে, আল্লাহ মালুম বা তারা-ই ভালো জানেন। তবে জিয়াউর রহমানের লাশ নয়, সেটা চ্যালেঞ্জ করে বলবো। তারপরও যদি বলেন, তাহলে ডিএনএ টেস্ট করেন।’

সভায় আলোচনা রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন,

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ভাস্কর রাশা, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের উপদেষ্টা আরিফুর রহমান সোহেল।