মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়স বাড়ানোর বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ফলে অন্যান্যদের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির মেয়াদ ৬০ বছরই রইল। এর আগে তারা চাকরির বয়স সীমা ৬৫ বছর করার আবেদন করেছিলেন।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি জানান, আদালতের আদেশ মোতাবেক বিষয়টি সভায় উপস্থাপন করা হয়।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চাকরির বয়স ৬৫ করতে আবেদন জমা দেন মুক্তিযোদ্ধারা। এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ তৈরি করে অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধারা হাইকোর্টের দারস্থ হন। এ বিষয়ে গত বছর নভেম্বরে আপিল বিভাগে শুনানি বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের নির্দেশ দেন আদালত। আদালত বলেন, চাকরির বয়স বাড়ানোর বিষয়টি যেহেতু সরকারের এখতিয়াভুক্ত সেহেতু মন্ত্রিসভায় এ বিষয়টি তোলা হোক। সে অনুযায়ী আজ সোমবার (১৮ জানুয়ারি) এ বিষয়টি মন্ত্রিসভায় তোলা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা শেষে মন্ত্রিপরিষদ মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদনটি নাকচ করে দেয়।
সচিব আরও বলেন, ২০১৩ সালে ৯ নম্বর আইন অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি চাকরির বয়স ৬০ বছর করা হয়। এর আগে মুক্তিযোদ্ধাসহ সবার চাকরির বয়স ছিল ৫৭ বছর। ওই সময় শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়স করা হয় ৫৯। পরে সবার বয়স বাড়িয়ে ৫৯ করা হয়। ওই সময় ৯ নম্বর আইন অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়স করা হয় ৬০।
সভা সূত্রে আরও জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়স নিয়ে আলোচনা শুরু হলে কেউ কেউ বলেন, এর আগে দুইবার তাদের বয়স বাড়ানো হয়েছে। আর না বাড়ানো সমীচীন হবে। কারণ তাদের বয়স বাড়ানো হলে অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের বদলি ও পদোন্নতিতে সমস্যা হবে।
সভায় জাতীয় ই-সেবা আইন-২০১৫ এর খসড়া আরও যাচাই বাছাই করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের সঙ্গে যেন সাংঘর্ষিক না হয় সেজন্য এটা করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৫ সালে ২১-২৩ ডিসেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাহরাইন সফর নিয়ে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।
/ওএফ/এসটি/