গত ১১ ও ১২ জানুয়ারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিবাদকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণড়িয়ার জামেয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।
সোমবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তিনি।
সাংসদ সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপি ও জামায়াতের যোগসাজশে সেদিনের একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এতে তারা (মাদ্রাসার ছাত্ররা) মার্কেটের দোকানগুলোয় লুটপাট চালিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রায় ৭০ কোটি টাকার ক্ষতি করে।’
এ সময় তিনি চারদফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে, ‘আমরা জেলার প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ততার প্রতিও তীব্র নিন্দা জানাই। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্থ সংস্থার জন্য যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, ভিডিও চিত্র দেখে দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা ও বিচারের সম্মুখীন করার দাবি জানাই।’
র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, ‘সম্ভবত শেষ রাতের দিকে চারতলার ছাদ থেকে একজন ছাত্র নিচে পড়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। এই ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফজরের নামাজের পরে মাদ্রাসার ছাত্ররা লাঠি-সোটা নিয়ে শহরে জমা হতে থাকে। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরব দেখা যায়। যেখানে জনগণের জানমালের ক্ষতি হচ্ছে, সেখানে তাদের চুপ থাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়।’
‘যারা মুক্তিযুদ্ধের, শিল্প ও সঙ্গীতের বিরুদ্ধে তারা ১২ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা ভবনে, শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত ভাষা চত্তরে অবস্থিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালায়। এমনকি তারা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বাড়ীতে অবস্থিত সঙ্গীতাঙ্গন ও মিউজিয়ামেও হামলা করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। তাই এ সমস্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার না হলে তারা পাড় পেয়ে যাবে।’
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার, পৌর মেয়র মো. হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহিন।
/এসআইএস/এফএস/