৫৭ লাখ টাকার পে-অর্ডার ফিরিয়ে দিলেন কনস্টেবল লিটন

পে অর্ডারের ব্যাগ তুলে দিচ্ছেন কনস্টেবল লিটন (ডানে)হালের নানা ঘটনায় পুলিশের ইমেজ যখন প্রশ্নবিদ্ধ, তখন ডিপার্টমেন্টে স্বস্তির সুবাতাস এনে দিল একটি খবর। সততার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কনস্টেবল লিটন সূতার। রাজধানীর রমনা এলাকার রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া সামিট কমিউনিকেশনসের সাড়ে ৫৭ লাখ টাকার পে-অর্ডার ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে রমনা মোড়ের সড়কে পে-অর্ডারের ব্যাগটি পান লিটন সূতার। এরপর তা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। লিটন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারের কনস্টেবল পদে কর্মরত।
তিনি  জানান, মঙ্গলবার দুপুরে মোটরসাইকেলে করে ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে ডিউটিতে যাচ্ছিলেন। সামনেই ছিল আরেকটি মোটরসাইকেল। ওই মোটরসাইকেলের চালকের পেছনের বাম দিকে এইচপি লেখা একটি ব্যাগ রূপসী বাংলা মোড়ে পড়ে যায়। ব্যাগটি ছিল সামিট কমিউনিকেশনসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ফিন্যান্স) মো. সাইফুল্লাহ রাসেলের। পরে ডিএমপি কন্ট্রোলরুমে গিয়ে ব্যাগটি খোলেন লিটন। সেখানে দেখতে পান দুটি চেক আর জরুরি কিছু কাগজপত্র। এর মধ্যে একটি ৫০ লাখ টাকা ও আরেকটি সাড়ে ৭ লাখ টাকার পে-অর্ডার। পরে লিটন ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এসে মিডিয়ার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারের কাছে ব্যাগটি জমা দেন। ব্যাগের ভেতর থাকা ভিজিটিং কার্ড দেখে ফোন দেওয়া হলে সামিট গ্রুপের আরেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার এ কে এম আহসান জামান স্বশরীরে পে-অর্ডারের ব্যাগটি গ্রহণ করেন।
ব্যাগ পাওয়ার সংবাদ পেয়ে সাইফুল্লাহ রাসেল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, পুলিশ যে জনগণের বন্ধু, আজ সত্যি তার প্রমাণ পেলাম।

কনস্টেবল লিটন বলেন, পুলিশ হয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের যে ব্রত পুলিশ বিভাগ শিখিয়েছে সেটা পালনের চেষ্টা করেছি। ছোটকাল থেকেই ইচ্ছা ছিল পুলিশ হবো। পুলিশ হয়ে মানুষের উপকার করে সত্যি ভালো লাগছে।

লিটনের বাড়ি পিরোজপুরের কাউখাইল থানার আমরাজুড়ি গ্রামে। তিনি ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। তার বাবার নাম নিখিল চন্দ্র সূতার। ৩ ভাই-বোনের মধ্যে লিটন ছোট।

লিটনের বিষয়ে এডিসি এস এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পুলিশি সেবা জনগণের দ্বারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা নিরলস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছি। আমরা এই ক্ষেত্রে জনগণের আরও কার্যকর সহযোগিতা চাই।’

/এআরআর/এফএ/