রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা ও উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে। শত প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি ও বৈরিতার মধ্যেও দেশে গণতন্ত্রের বিকাশ, আইনের শাসন ও আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সুশাসন সুসংহত করার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে এ সরকার। তিনি বলেন, গণতন্ত্র চর্চা ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সভাপতিমণ্ডলির সদস্য মনোনয়ন ও সংসদে শোকপ্রস্তারের পর রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করেন। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে শুরু করে ৫টা ২৬ মিনিটে শেষ করেন। মন্তিসভায় অনুমোদিত ৯৩ পৃষ্ঠার ভাষণের চুম্বক অংশ রাষ্ট্রপতি পাঠ করেন। এ সময় তার মূল বক্তব্য পঠিত বলে গণ্য করার জন্য স্পিকার শিরীন শারমিনকে অনুরোধ জানান আবদুল হামিদ। ভাষণে তিনি অর্থনীতি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, খাদ্য-কৃষি, পরিবেশ-জলবায়ু, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরেন।
সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।
কোনও সংসদের প্রথম এবং নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। পরে পুরো অধিবেশনজুড়ে তার ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। আলোচনা শেষে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।
বুধবার অধিবেশন শুরুর পরে রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দেন স্পিকার। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি বাদ্যদল বিউগলে ফ্যানফেয়ার’ বাজিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্ভাষণ জানান। সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতির ঢোকার পর নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি সরকার ঘোষিত ভিশন-২০২১ এবং ভিশন-২০৪১ অর্জনে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে, এটাই জাতির প্রত্যাশা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে সরকার নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে।
মানবপাচার, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মাটি থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিগত মেয়াদের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে, দেশে নাশকতামূলক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং জনজীবনে স্বস্তি বিরাজ করছে।
সরকার রাজনীতি থেকে হিংসা, হানাহানি অবসান করতে টেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি সরকার ও বিরোধী দলকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সবাইকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদে যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।
মানবতাবিরোধীদের বিচারের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে ১৯৭১ সালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করছে এবং বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে। মানবতাবিরোধীদের বিচারসহ অন্যান্য চাঞ্চল্যকর ও জনগুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো নিস্পত্তির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
পদ্ম সেতুর কাজ শুরু হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সড়ক অবকাঠামো ৬ দশমিক এক-পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হয়েছে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সংবিধান সমুন্নত এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখে ২০১৪ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয় এবং বর্তমান সরকারের ওপর দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়।
/ইএইচএস/এমএনএইচ/