এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায় এড়াচ্ছে ইসি

নির্বাচন কমিশনময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হেরে যাওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা সুব্রত পালের ওপর চড়াও হয়েছিলেন ময়মনসিংহ-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদ। এ বিষয়ে সুব্রত পাল নির্বাচন কমিশনে প্রথমে অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু কমিশন কোনও ব্যব্স্থা না নেওয়া তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অভিযোগ করেন। এতেও কোনও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। এদিকে, ইসিও অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে ওই অভিযোগপত্র প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের কাছে পাঠাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, নির্বাচনের সময়  স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিটার্নিং অফিসার সুব্রত পাল এ বিষয়ে কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগ কমিশন নিজস্ব সচিবালয়ের উপ-সচিব রকিব উদ্দিন মণ্ডলকে দিয়ে তদন্ত করায়। তদন্তে কোনও কিছু না পাওয়ায় ইসি কমিশন ওই সময় এ বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এরপর সুব্রত পাল জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অভিযোগ করেন। তারাও কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি আবারও কমিশনে পাঠিয়ে দেন। এখন কমিশন কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের দফতরে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন তদন্ত করে কিন্তু তাতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। যে কারণে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এখন মন্ত্রিপরিষদ থেকে চিঠি আসায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনের সময়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সুব্রত পাল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শশধর সেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে নেয়।

কমিশন সচিবালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের আগেই সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদ একাধিকবার রিটার্নিং কর্মকর্তাকে হুমকি দিয়েছেন। এরপর ভোটের দিন ফল ঘোষণার সময় ইউএনওর বাসার সামনে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সংসদ সদস্য ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার জন্য ইউএনও-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু ইউএনও তার প্রস্তাবে রাজি হননি। নির্বাচনের ফলের পরও ওই রিটার্নিং অফিসারকে হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে কমিশনে আবেদন করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু কমিশন তদন্ত করে কোনও প্রমাণ পায়নি। এরপর সুব্রত পাল জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অভিযোগ করেন। মন্ত্রিপরিষদ তা আবারও কমিশনে পাঠিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে শরীফ আহমেদের মোবাইল নম্বরে ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আমিনুল হক বিজয়ী হন। গত ১০ জানুয়ারি এই নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ করে কমিশন।

/এমএনএইচ/