ধর্ষণের আইন পরিবর্তনসহ ১৯ দফা দাবি মহিলা পরিষদের

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলনধর্ষণের আইন পরিবর্তনসহ ১৯ দফা দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের পক্ষে এ সময় লিখিত বক্তব্যে ১৯ দফা দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনের আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক কাজী সুফিয়া আক্তার শেলী।
দাবিগুলো হচ্ছে- অবিলম্বে সংসদের চলতি অধিবেশনে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সরাসরি নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করে এক তৃতীয়াংশ করতে হবে। ধর্ষণকারীকে চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস করে স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

প্রত্যেক রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচনের জন্য শতকরা ৩৩ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দিতে হবে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও আদিবাসীসহ সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যেকোনও ধরনের অপরাধীকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। চলমান মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। সিডও সনদের ধারা ২ এবং ১৬-১(গ)ধারা থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করতে হবে ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

সংগঠনের আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক কাজী সুফিয়া আক্তার শেলী অভিযোগ করেন, নারী সংসদ সদস্যরা এখনও পর্যন্ত মর্যাদা ও অধিকারের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এমনকি তারা সংসদে নারী ইস্যুতে কথা বলছে না। নিজ নিজ এলাকাতেও নারী সহিংসতার প্রতিরোধ বা নারীর ক্ষমতায়নে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পাচ্ছেন না।

তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, প্রশাসন ও প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। প্রশাসনকে জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। নারী জনপ্রতিনিধির দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

সম্প্রতিক প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যুরোর জরিপে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেলী বলেন, ২০১১ সালের তথ্য মতে- গৃহে ৮৭ শতাংশ নারী স্বামী কর্তৃক নির্যাতনের শিকার এবং ৮২ শতাংশ নারী গৃহে স্বামী কর্তৃক মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাই নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতার ধরন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, সহসভাপতি রেখা চৌধুরী প্রমুখ।

/এসআইএস/আরএ/এএইচ/