পাঁচ রংয়ের বাস চলবে নগরীতে

বর্তমানে বিভিন্ন রংয়ের বাস চলছে নগরীতেনগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ গলদগর্ম হচ্ছে। মন্ত্রী-নেতারা সতর্ক করে দিচ্ছেন বাস চালকদের। কিন্তু থামছে না নৈরাজ্য। বাসে বাসে প্রতিযোগিতা, একটার গতিরোধ করে অন্য বাসের দাঁড়িয়ে থাকা, যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা, ট্রাফিক আইন না মানা- সবই যেন নিত্য নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবহন সেক্টরের এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে এবার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এজন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। সে অনুযায়ী রাজধানীতে তিন হাজার নতুন বাস নামানো হবে। এর মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস থাকবে এক হাজারটি। পাঁচটি রং দিয়ে বাসগুলোকে পরিচালনা করা হবে পাঁচটি কোম্পানির নামে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। আগামী বছর প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখতে পারে।
জানা গেছে, প্রায় এক দশক আগে সরকার প্রণীত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) নির্ধারিত সংখ্যক কোম্পানির মাধ্যমে নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সুপারিশ রয়েছে। অর্থাৎ একটি রুটে কেবল একটি কোম্পানির বাস চলবে। এর ফলে একই রুটের বাসগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে না। কিন্তু দশক পেরিয়ে গেলেও গণপরিবহনে এসটিপির এই সুপারিশ বাস্তবায়ন করা যায়নি। তবে তিন বছর আগে আজিমপুর-উত্তরা রুটে ‘বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজ’ (বিআরটি) করা হয়েছিল। কিন্তু অর্থলোভী পরিবহন মালিকদের কারণে বিআরটি ব্যর্থ হয়ে যায়। এরপর থেকে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে চলছে নগরীর গণপরিবহন।

বর্তমানে প্রায় ২০০ কোম্পানির প্রায় পাঁচ হাজার বাস প্রতিদিন সিটি সার্ভিসের রুটগুলোতে চলাচল করছে। এক রুটের একাধিক কোম্পানির বাস চলছে হরদম। ফলে কে কার আগে যাবে তা নিয়ে সারাক্ষণই চলতে থাকে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এ কারণে দুর্ঘটনা, যানজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে নগরীতে।

মালিকরা বলছেন, যানজট ও চাঁদাবাজির কারণে প্রায় এক দশক ধরে নগরীতে ব্যাপকভাবে নতুন বাস নামছে না। যেগুলো চলছে সেগুলোর বেশির ভাগ পুরনো ও লক্কর-ঝক্কর হয়ে পড়েছে। নতুন বাস নামছে খুবই কম।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতউল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে একটা উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য প্রায় তিন হাজার বাস নামানো হবে। তবে এটা এখনও প্রাথমিক অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, ঢাকায় দক্ষ চালকের খুবই অভাব। এজন্য বাস নামানোর পাশাপাশি চালকদেরকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নতুন বাস নামানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরনোগুলোকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এই পুরনো বাসের মালিকদেরকে কম সুদে ঋণ দেওয়া হবে যাতে তারা নতুন বাস কিনতে পারেন।

জানা গেছে, নতুন বাসগুলোতে থাকবে মডার্ন টিকিটিং ব্যবস্থা। যাত্রীদের সুবিধার্থে টিকিটের পরিবর্তে কার্ড সিস্টেমও চালু করা হবে। তবে কোন রুটে কোন রংয়ের বাস চলবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পারলেই বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক শনিবার পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে আমরা তিন হাজার নতুন বাস নামানোর পরিকল্পনা করেছি। পাঁচটি কোম্পানির মাধ্যমে বাসগুলো চলাচল করবে। রুটভেদে বাসগুলো হবে পাঁচ রংয়ের। তিনি বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। তাই আমরা ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদেরকে বলেছি- নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থা সাজাতে যেসব মালিক নতুন বাস কিনতে চান তাদের যেন ন্যূনতম সুদে ঋণ দেওয়া হয়। এটা প্রধানমন্ত্রীও জানেন।

মেয়র বলেন, এটা নিয়ে পরিবহন মালিকদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা রাজি হয়েছেন। তখন যাত্রী ওঠানামা হবে শুধু বাস স্ট্যান্ডে। বাস স্ট্যান্ডে বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে ঢাকা নগরীতে দিন ভেদে জোড়-বেজোড় নম্বরের গাড়ি চলাচলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহউদ্দিন রবিবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই কাজটা আরও আগে করা উচিত ছিল। কিন্তু আমরা করতে পারিনি। তবুও বলা যায় দেরি হলেও ভালোই হবে। আর এই পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে গণপরিবহন সেক্টরে প্রভূত উন্নতি হবে।

/ওএফ /এএইচ/