সাউথ এশিয়ান স্পিকার্স সামিট শুরু শনিবার

সার্কভুক্ত ছয় দেশের পতাকা

আগামী ৩০-৩১ জানুয়ারি ঢাকায় ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন শীর্ষক’ সাউথ এশিয়ান স্পিকার্স সামিট ২০১৬ অনুষ্ঠিত হবে। আফগানিস্তান,ভুটান,ভারত,মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের স্পিকারসহ সংসদীয় প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।

সোমবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান জাতীয় সংসদ সদস্য ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন,১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আইপিইউ জাতীয় পার্লামেন্টগুলোর একটি বৈশ্বিক সংগঠন।সংসদীয় সংলাপ ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শান্তি ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩০-৩১ জানুয়ারি ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন’ শীর্ষক সাউথ এশিয়ান স্পিকার্স সামিট ২০১৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আইপিইউ,বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস্ (সিটিএফকে) যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে কানাডিয়ান ক্যান্সার সোসাইটি, আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি, আইপিইউ, ইউএনডিপি, এসকেপ, সিটিএফকে, ডব্লিউএইচও, থাই হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশনসহ বেশ কয়েকটি আর্ন্তজাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

এবারের সম্মেলনে আলোচনায় পাঁচটি বিষয় প্রাধান্য পাবে।এগুলো হচ্ছে ১. দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এসডিজি গুরুত্বপূর্ণ কেন? ২. এসডিজি বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনায় পার্লামেন্টগুলোর ভূমিকা, ৩. এসডিজি স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি সংক্রান্ত গোল-৩ এর অধীন সুযোগসমূহ, ৪. তামাক মহামারির বর্তমান অবস্থা ও নিয়ন্ত্রণে কৌশল নির্ধারণ ও ৫.দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নীতি কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন,এতদিন স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো ছিল মূলত এইচআইভি, এইডস, মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যু হ্রাসকেন্দ্রীক। এই প্রথমবারের মত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিয়ে এসডিজির একটি টার্গেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী তামাক এখন এক মহামারির নাম। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশসহ মোট ৮টি দেশে এক তৃতীয়াংশ (৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ) তামাক ব্যবহারকারী বসবাস করে, যার সংখ্যা প্রায় ৩৮৪ মিলিয়ন। এসব দেশে তামাক ব্যবহারজনিত স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ।পরিসংখ্যান মতে, কেবল ভারত ও বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে বছরে ১১ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী,আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যু বছরে ৮০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে এবং এই মৃত্যুর ৮০ ভাগই বহন করতে হবে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে।

তিনি জানান,এসডিজির যে ১৬৯টি টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে তামাকের ভয়াবহতা বিবেচনায় ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল-(এফসিটিসি) বাস্তবায়ন অন্যতম। সুতরাং এফসিটিসি বাস্তবায়ন এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনও বিষয় নয়,উন্নয়নের মূল স্রোতধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসডিজি অর্জন করতে চাইলে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার দেশের সরকারগুলোকে এফসিটিসি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

এফসিটিসির কার্যকর বাস্তবায়ন মোটাদাগে দুটো কারণে অত্যন্ত জরুরি। এক: এফসিটিসি বাস্তবায়ন ব্যতিরেকে এসডিজির তৃতীয় লক্ষ্যমাত্রা স্বাস্থ্যসম্মত জীবনমান নিশ্চিতকরণ এবং সব বয়সের সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা অর্জন সম্ভব নয়। দুই: এসডিজির অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও তামাক একটা বড় ধরনের বাঁধা যা এফসিটিসি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই অপসারণ করতে হবে।

এসডিজি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আইপিইউ ও এর মেম্বার পার্লামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসডিজি-১৬ তারই ফসল, যেখানে টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন,সকলের অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণ এবং অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সারাবিশ্বে ৬৮ শতাংশ মৃত্যুর কারণ এই অসংক্রামক রোগ-ব্যাধি। তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।

/এসআই/ এমএসএম