স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বিলটি উত্থাপন করেন। পরে তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোস্টগার্ড বাহিনীতে একজন মহাপরিচালকসহ মোট ২১টি পদ থাকবে। যুদ্ধাবস্থা বা অন্য কোনও বিশেষ প্রয়োজনে কোস্টগার্ডকে সহায়তা করার জন্য সরকার কাউকে তলব করে নিয়োজিত করলে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ওই ব্যক্তি কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা বা সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। নিয়োজিত অবস্থায় কোনও ব্যক্তি চাকরির শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
কোস্টগার্ডের কাজ হবে বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদকদ্রব্য, চোরাচালান রোধ, অবৈধ মৎস্য আহরণ ইত্যাদি রোধ করা। কোনও ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাফতরিক কাজে বাধা দিলে, কর্মকর্তাকে হুমকি দিলে বা তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করলে ১৪ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনও ব্যক্তি জুয়া খেললে বা মদ্যপ অবস্থায় মাতলামি করলে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনও ব্যক্তি মিথ্যা জেনেও অন্য কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ আনলে সেই ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
আইনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য স্পেশাল কোস্টগার্ড আদালত, স্পেশাল সামারি কোস্টগার্ড আদালত ও সামারি কোস্টগার্ড আদালত নামের তিনটি আদালত থাকবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। যে কারণে কোস্টগার্ড বাহিনীকে বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। তাই আইনটি নতুন করে প্রণয়ন করা দরকার।
১৯৯৪ সালে সংসদে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে কোস্টগার্ড আইন করা হয়। সরকারি দল সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি বাতিলের প্রস্তাব করলে বিরোধী দল আপত্তি জানায়। শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলীয় সদস্যদের ভোটে বিলটি পাস হয়েছিল। ওই দিন সংসদে সরকারি দলের সদস্যদেও চেয়ে বিরোধী দলীয় সদস্যদেও উপস্থিতি বেশি ছিল।
/ইএইচএস/এফএস/