ডোপ টেস্ট নিয়ে ভোগান্তিতে চালকরা

ভারী যানবাহন চালকদের লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন লাইসেন্স নিতে ডোপ টেস্ট (শরীরে মাদকের উপস্থিতি) সনদ বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। ৩০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন এই নিয়ম। কিন্তু পরীক্ষা করাতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন লাইসেন্স প্রত্যাশীরা। নমুনা পরীক্ষার জন্য হাসপাতাল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে মাত্র ছয়টি। তাতেও নেওয়া হচ্ছে চাহিদার তুলনায় খুব কম নমুনা।

ডোপ টেস্ট সনদ বাধ্যতামূলক করায় এখন থেকে যারা মাদকাসক্ত নন, তারাই কেবল পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন।

লাইসেন্সপ্রার্থীদের ডোপ টেস্টের প্রক্রিয়া শুরু হতেই দেখা দিচ্ছে নানা জটিলতা। স্বাস্থ্য অধিদফতর অনুমোদিত অনেক হাসপাতালে এখনও পরীক্ষাই চালু হয়নি বলে অভিযোগ চালকদের। আবার যেসব হাসপাতালে চালু হয়েছে তারাও নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরে নমুনা নিচ্ছে না।

শরীরে মাদকের উপস্থিতি আছে কিনা তা জানতে করা হয় মূত্র-পরীক্ষা। সরকারি পরিপত্রে বলা হয়েছে, ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের আলামত পাওয়া গেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়ন করা যাবে না।

আরও বলা হয়েছে, এই পরীক্ষা সারাদেশে সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতাল এবং ঢাকা মহানগরীর ৬টি হাসপাতালে করা যাবে।

মহানগরীর হাসপাতালগুলো হচ্ছে—ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালগুলোতে দিনে ৫০ জনের বেশি নমুনা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে ছয়টি হাসপাতাল মিলিয়ে পরীক্ষা করা যাবে মাত্র ৩০০ জনের। এর মধ্যে কয়েকটি হাসপাতাল এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলেও জানা গেছে।

রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালেও ভারী যানবাহনের লাইসেন্স প্রত্যাশীদের ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। কিন্তু সেখানেও দিনে ৫০ জনের বেশি নমুনা নেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন চালকরা।

শামছুল ইসলাম নামের এক গাড়ি চালক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লাইসেন্স করতে এসে জানতে পারি ডোপ টেস্ট রিপোর্ট লাগবে। চার দিন ধরে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরছি। কেউ নমুনা নিচ্ছে না।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, হয়রানির কারণে অনেক চালক লাইসেন্স নবায়ন ও ইস্যুতে আগ্রহী হচ্ছে না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের একজন নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, টেস্ট করাতে গিয়ে চালকরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। মাত্র ছয়টি হাসপাতাল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। চালকরা গিয়েও ফিরে আসছেন।

বিআরটিএর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, ৩০ জানুয়ারি থেকে বিষয়টি কার্যকর করেছি। পেশাদার চালকদের জন্য ডোপ টেস্ট সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রিপোর্টে মাদক সেবনের আলামত পাওয়া গেলে লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়ন করা যাবে না।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সমস্যাটি নিয়ে আমরা স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এখন থেকে প্রতি মাসে দুই হাজার চালকের ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করবেন। আরও একটি হাসপাতাল বাড়ানো হবে। এখন থেকে আর এই সমস্যা হবে না।’