জানা গেছে, নিয়োগপত্র প্রদান ও জাতীয় বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণসহ বেশ কিছু দাবিতে সম্প্রতি পণ্যবাহী, যাত্রীবাহী তেলবাহী, বালুবাহী সব নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারের শ্রমিকরা ফেডারেশনের ব্যানারে এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এ ধর্মঘট শুরু হওয়ার কথা।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গত কয়েকদিন চেষ্টা করেও শ্রমিকদেরকে ধর্মঘটের রাস্তা থেকে সরাতে পারেনি। ফলে নৌপরিবহন খাতে অচলাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিলে মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় সচিবালয়ে যৌথসভার আয়োজন করে মন্ত্রণালয়। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুসহ নৌযান মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যা সাতটায় সভা শেষে ফেডারেশন নেতারা বলেন, বৈঠকে দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
জানা গেছে, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের দাবি ১৫টি এবং জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩৫টি। এগুলোর মধ্যে অনেক দাবিই অভিন্ন।
নৌযান শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পরিবহনের পরিকল্পনা বাতিল, কর্মস্থলে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ব্যয় মালিকের বহন, কর্মস্থলে নিহত নৌযান শ্রমিকের মৃতদেহ মালিকের খরচে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো, সামুদ্রিক মৎস্য শিকারি জাহাজ শ্রমিকদের ঘোষিত মজুরি অবিলম্বে বাস্তবায়ন ও অন্যান্য ভাতা পুনর্নির্ধারণ, নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত।
এছাড়া রয়েছে শ্রমিকদের উৎসব ভাতা প্রদান, গেজেটের মাধ্যমে ছুটি ঘোষণা, নৌযানে সন্ত্রাস চাঁদাবাজী-ডাকাতি-অপহরণ বন্ধে পদক্ষেপ, সরকারি ব্যবস্থাপনায় কল্যাণ তহবিল ও প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন, সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ, নৌযান চলাচলে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, লাইটারেজ জাহাজের শ্রমিকদের শতভাগ খোরাকি ভাতা ও ঝুঁকি ভাতা প্রদান ইত্যাদি।
/ওএফ / এএইচ /