এর আগে সংসদে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর আলোচনার সূত্রপাত করেন স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী।
এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রবীণ সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যও দাবি করেন। সরকার দলীয় সদস্য আবদুল মতিন খসরুও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য নিয়ে কথা বলেন।
এদিকে, রায় লেখা নিয়ে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের পর থেকে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তার ভিত্তিতে বিএনপি বলছে, অবসরের পরে লেখা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের রায়ও তাহলে অবৈধ।
মঙ্গলবার সংসদে বক্তব্যকালে আইনমন্ত্রী বলেন, হাইকোর্ট ডিভিশনের স্টাবলিশ রুলস এ যেটা আছে, রায় যতদূর সম্ভব এজলাসে বসেই দেওয়ার কথা। কিন্তু যদি মামলার চাপের জন্য তারা রায়টা এজলাসে দিতে পারছেন না তাহলে এজলাসে মূল আদেশের অংশ ঘোষণার পরে বাইরে পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার অধিকার রাখেন। অবসরে যাওয়ার পর আর লেখা যাবে না সেটা উচ্চ আদালতের রুলসে লেখা নেই।
প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের পেছনের যুক্তি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অবসরে যাওয়ার পর রায় লেখা বেআইনি নয়। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এটা বলেছেন, নিশ্চয় একটা কারণ তো আছে। এমন যদি হয় যে, আজকে কোনও কোনও বিচারপতি রায় দেরি করে লেখেন, তাহলে লিটিগেন্ট পাবলিকের অনেক অসুবিধা হয়। ভুক্তভোগী জনগণ চায় তারা যেন রায়টা তাড়াতাড়ি হাতে পায়। রায় হাতে পেলে তারা আপিল বিভাগে যেতে পারেন। আপিল বিভাগে রায় হাতে পেলে কার্যকর করতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের রায় প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতি যেটা দেখেছেন, আমরাও সেটা দেখেছি। অনেক ক্ষেত্রে রায় অবসর নেওয়ার পর লেখা হচ্ছে। তিনি যেটা করতে পারেন, একটা প্র্যাকটিস ডিরেকশন দিতে পারেন। সেখানে উল্লেখ করে দিতে পারেন, রায় অবসরে যাওয়ার তিন-চার মাস আগে বা একটা টাইম ফ্রেম দিয়ে বলতে পারেন এর মধ্যে রায় লিখতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, দুঃখজনক হলো তার বক্তব্য ষড়যন্ত্রকারীরা লুফে নিয়েছে। এটা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা এটা হচ্ছে ওই ষড়যন্ত্র করে পরিষ্কার পানি ঘোলা করার চেষ্টা। যারা পেট্রলবোমা মেরে মানুষ মেরেছে, তারা বলতে শুরু করেছে অতীতের সব রায় অবৈধ। এটা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। প্রধান বিচারপতি কিন্তু এটা বলেছেন, কোনও রায় বাতিল হবে না। তিনি পরিষ্কার করেছেন। তিনি সম্ভবত রায় লেখার কাজে বিলম্বের কারণে দুঃশ্চিন্তায় আছেন।
এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে সুরঞ্জিত বলেন, প্রধান বিচারপতি একটি পাবলিক স্পিচে বলে বসলেন এক্সিকিউটিভ জুডিশিয়ারির ক্ষমতা নিয়ে নিচ্ছে। এ ধরনের মন্তব্য তাদের শপথের পরিপন্থী। আমরা স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। এর পরেই দেখলাম তিনি বলে বসলেন, জাজমেন্ট ডিক্লায়ার করার পরে অবসরের পর রায় লিখলে অসাংবিধানিক। এটা যদি অসাংবিধানিক-অগণতান্ত্রিক হয় তাহলে রাষ্ট্রের ভিত্তিগুলো অসাংবিধানিক হয়ে যায়। এ ধরনের কোনও কথা জুডিশিয়ারির কাছ থেকে আসার পরে দেশটা কেঁপে উঠল। সঙ্গে-সঙ্গেই আমাদের বিরোধী দল বলে বসল এই সরকার অবৈধ। রাজনীতি যখন স্থিতিশীল হয়ে আছে তখন তার এই কথা উস্কানিমূলক।
সুরঞ্জিত বলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা এবং অকারণে যেটার কোনও সাংবিধানিক ভিত্তি নেই, এটি তোলা সত্যিই সবাইকে বিব্রত করার বিষয়। এটি আতঙ্কও সৃষ্টি করেছে।
আবদুল মতিন খসরু বলেন, অবসর যাওয়ার পর মামলার রায় লেখার সুযোগ থাকাটা রেওয়াজ। তার বক্তব্য বিতর্কেও সৃষ্টি করেছে। এভাবে কথা বলা তার ঠিক হয়নি। একই কথা তিনি বার-বার বলে যাচ্ছেন। তিনি যা ইচ্ছা তা বলতে পারেন না। তবে, তাঁর বক্তব্য ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনা হতে পারে। কারণ, রায় লেখার ক্ষেত্রে একজন বিচারপতি দু’তিন মাস সময় নিতে পারেন। দেড় বছর, দু’বছর লাগাতে পারেন না।
/ইএইচএস/এমএনএইচ/