তৃতীয় দিনে জমলো বইমেলা

অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২২-এর তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেড়েছে দর্শনার্থী, বেড়েছে পাঠক সমাবেশ, বেড়েছে বিক্রিও। দিনে দিনে জমে উঠছে মেলা। শুরুর দিকে উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও সন্ধ্যার পর তা বেড়ে যেতে দেখা যায়।

প্রকাশকরা জানান, প্রথম দিনে দর্শনার্থী কম থাকলেও দিন দিন বাড়ছে। শেষের দিকে উপস্থিতি বাড়বে। বিক্রিও বেশি হবে বলে আশা তাদের।

boimela বইমেলা

অনিন্দ্য প্রকাশের বিক্রয়কর্মী সুজন ঘোষ বলেন, ‘লোকসমাগম ভালো। প্রথম দিক হিসেবে বিক্রিও ভালো হচ্ছে। সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার উপন্যাস বেশি বিক্রি হচ্ছে।’

ভাষাচিত্রের প্রধান সম্পাদক খন্দকার সোহেল বলেন, ‘অধিকাংশ এখনও আসছেন ঘুরতে। বই বাছাই করছেন তারা। তবে এটাই নিয়ম। মাঝামাঝি পর্যায়ে বই বিক্রি বাড়ে।’

শিখা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী নাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘বিক্রি প্রথম দিনের তুলনায় একটু কম। আমরা আশাবাদী আগামীকাল আরও জমবে। সামনে স্কুল-কলেজ খুললে বিক্রি বাড়বে। থ্রিলার উপন্যাস, ইসলামিক বই ও অনুবাদের চাহিদা বেশি।’

ঢাবি শিক্ষার্থী সুরাইয়া আফসানা বলেন, ‘মেলায় এসে আজ দুটি বই কিনলাম। আরও কিছু দেখে রেখেছি। শেষ দিকে কিনবো। প্রথমদিকে মূলত তালিকা করি।’

এদিকে তৃতীয় দিনেও খোলেনি লিটলম্যাগ চত্বরে অর্ধেকেরও বেশি স্টল। এ বিষয়ে পূর্ব-পশ্চিমের সম্পাদক উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, ‘লিটলম্যাগ চত্বরটা সাধারণত দু-চার দিন পরই শুরু হয়। তাছাড়া অনেকে জেলা শহর থেকে আসেন। আশা করছি আগামীকাল সবাই চলে আসবেন।’

IMG_20220217_170049

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল ও আজকে মেলা কিছুটা জমেছে। তৃতীয় দিনে এত মানুষ চিন্তা করা যায় না। আগামীকাল শুক্রবার আরও বাড়বে মানুষ। মেলায় কেনাবেচাটাই মুখ্য নয়। প্রাণের মেলায় মানুষ আসছেন, এটাই বড়।’

মেলায় শতভাগ মাস্ক নিশ্চিত করতে কাজ করছে বাংলা একাডেমির স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক টাস্কফোর্স। মেলায় ঘুরে দর্শনার্থী, পাঠক ও বিক্রয়কর্মীদের মাস্ক পরার নির্দেশ দিচ্ছেন তারা।

১৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাটক শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নাটক বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাবুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্রে জেঁকে বসা অশুভ শক্তি নাটকের স্বাধীন বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে বারবার। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নাট্যচর্চার বিকল্প নেই।’

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোমিন রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র নির্মাণশৈলীতে অনেক দূর এগিয়েছে। তবে বিশ্বমানের চলচ্চিত্র সৃজনে এখনও অনেক কিছু করার বাকি।’

সভাপতির বক্তব্যে রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘নাটক ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে আনা যেতে পারে। নতুন প্রজন্মের তরুণ নির্মাতারা শিল্পমানসম্পন্ন, জীবনমুখী চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন, যা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। আর স্বাধীনতার সুবর্ণফসল তো বাংলাদেশের নাটক। স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশে প্রতিবাদী নাটকের যে ধারা তৈরি হয়েছিল তা স্বাধীনতা-পরবর্তী নাটকের ধারাকে সমৃদ্ধ করেছে।’ 

IMG_20220217_191512

মেলায় নতুন বই

বাংলা একাডেমি থেকে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় তৃতীয় দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ৪১টি। এরমধ্যে গল্প ৩টি, উপন্যাস ১টি, প্রবন্ধ ১টি, কবিতা ১৫টি, গবেষণা ৪টি, ছড়া ৪টি, জীবনী ৪টি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ২টি, বিজ্ঞান ২টি, ভ্রমণ ২টি ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক ৩টি বই।