বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ মামুন, পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক ও শ্রমসচিব মিকাইল শিপার বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন। ইউএসটিআর এসিট্যান্ট সেক্রিটারি মাইকেল জে. ডিলানি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ডিরেক্টর সান্ড্রা গালিনা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ন্যান্সি লেপিংক এবং অন্য স্টেকহোল্ডাররা শ্রমমান উন্নয়ন নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
এবারের বৈঠকে অন্যায্য শ্রম চর্চা ও রফতানি প্রক্রিয়াজাত অঞ্চলে ট্রেড ইউনিয়ন ব্যবস্থা চালুকরণ বিষয়দুটি প্রাধান্য পাবে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।
সরকারের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাই বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে শ্রমমান, কর্মস্থল সুরক্ষা ও শ্রমিকদের অধিকারের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাবে
ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন, শ্রম অধিকার চর্চায় বাধাদানের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, শ্রমিকদের হয়রানি বিরুদ্ধে সুরক্ষা, শ্রম আইননীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, সকল রপ্তানিকারক তৈরি পোশাক শিল্পের পরিদর্শন ও অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী সব তৈরি পোষাক শিল্পের ভবন মেরামত ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের তিন সচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কর্মকর্তারা।
২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরে শ্রমিকদের অধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। এর পরে জুলাই মাসে বাংলাদেশ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মধ্যে শ্রমিকদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয় নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার জন্য কমপ্যাক্ট সাসটেইনাবিলিটি অনুমোদন করা হয়।
সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, অন্যায্য শ্রম চর্চার বিষয়টি লিখিতভাবে সরকারকে প্রায় ছয় মাস আগে জানানো হয়েছিল এবং এর অগগ্রতি সম্পর্কে বিদেশি প্রতিনিধিদের এ বৈঠকে জানানো হবে।
বাংলাদেশে রফতানি প্রক্রিয়াজাত অঞ্চলে এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নেই এবং এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের আপত্তি আছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি বড় আকারে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তিনি বলেন, ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে করা এবং অন্যায্য শ্রম চর্চার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করার নিশ্চয়তা চায় বিদেশি প্রতিনিধিরা। শ্রম আইন ও এর নীতির অধিকতর সংশোধনের ওপর তারা জোর দিতে পারে বলে মনে করেন কর্মকর্তাটি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত তৈরি পোশাক শিল্পে বিভিন্ন উন্নতির বিষয় তুলে ধরা হবে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সবার একটি বড় দাবি ছিল, শ্রম আইনের নীতি এবং সেটি গত বছর জারি করা হয়েছে। এছাড়া, কারখানা পরিদর্শন কর্মকাণ্ড চলছে এবং এখন পর্যন্ত বড় অংশের পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
/এমএনএইচ/