সমালোচকদের দমন করছে বাংলাদেশ সরকার: এইচআরডব্লিউ

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এইচআরডব্লিউ এর প্রতিবেদন
বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ এবং সমালোচকদের সরকার কঠোর হাতে দমন করছে বলে মন্তব্য করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ। ৯০ টির বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার প্রকাশিত সংস্থাটির ‘বিশ্ব প্রতিবেদন ২০১৬’ তে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে এই মন্তব্য করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে,গত বছরসরকারবিরোধী কিছু দলের আন্দোলন চলার সময় সহিংসতায় অনেক সাধারণ যাত্রী নিহত ও অনেকে আহত হন।’
৬৫৯ পষ্ঠার ওই বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আক্রমণ হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার এবং বিদেশি সাহায্যকর্মীরা চরমপন্থি দলগুলোর হামলার শিকার হয়েছেন। এছাড়া,আদালত অবমাননা বা অস্পস্ট আইনে বিচারের মাধ্যমে সরকার গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের ওপরও পীড়ন চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন এই সরকার ক্রমেই কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার করেছে। তাছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্যাতন, হত্যা এবং গুমের মতো বিষয়গুলোতে জড়িয়ে পড়লেও রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিচারের উদ্যোগ নেয়নি।  
এইচআরডব্লিউ এর এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ব্রাড অ্যাডামস বলেন,‘প্রধান দলগুলোর অংশগ্রহণ না থাকায় বর্তমানে জাতীয় সংসদে কোনো কার্যকর বিরোধী দল নেই। শেখ হাসিনার সরকার কার্যত এখন সব ভিন্ন কণ্ঠস্বরই দমন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এমনকি তা সংসদের বাইরেও। ভয়ের বিষয় যে, যখন ব্লগাররা খুন হন, তখন সরকার কেবলই আত্মনিষেধাজ্ঞার কথা শোনাতে থাকে।’
২০১৫ সালে চরমপন্থীরা পাঁচ ব্লগারকে খুন করেন। চরমপন্থীরা হত্যার জন্য অন্য ব্লগার, লেখক ও প্রকাশকদের তালিকা করায় বর্তমানে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, হয় সরকার আগে থেকে তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়নি, বা তা অপর্যাপ্ত ছিল। এছাড়াও,গত বছর শিয়া সম্প্রদায়ের মিছিল এবং মন্দিরে হামলার ঘটনায় অনেকে আহত হন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানিয়েছেন,তারা গণগ্রেফতার বা বিচারবর্হিভূত হত্যার আশঙ্কায় রয়েছেন। গত ১০ মার্চ ঢাকা থেকে বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি চলার সময় দলটির মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বলা হয়, ঢাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সালাউদ্দিন আহমেদকে আটক করেছিল। কিন্তু সরকারবিরোধী নেতাদের এইসব নিখোঁজের তদন্তের ব্যাপারে তাদের ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশে সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে উল্লেখ করে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ নিয়ে একজন সাংবাদিকের স্বচ্ছ সমালোচনায় সমর্থন দেওয়ায় ৪৯ জনকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এছাড়া,সরকারের সমালোচনা করায় গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া এবং সম্পাদক ও সাংবাদিকদের বিচারের মুখোমুখি করা বা গ্রেফতার অব্যাহত আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ায় দুজনকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। এছাড়া, ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দুজনের ফাঁসি কার্যকরের পর সরকার ফেসবুকসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়।

ব্রাড অ্যাডামস বলেন,‘গতবছর বাংলাদেশে যেসব সমস্যা ছিল চলতি বছরও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পরিস্থিতি মাত্রা আরও ভয়াবহ হয়েছে।’

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরা হয়েছে। শ্রম আইনে সংশোধন দেশের গার্মেন্ট শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া, নিবন্ধিত শ্রমিক ইউনিয়নের সংখ্যাও বাড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

/এসএম/এমএসএম/