‘মাস্কই টিকিট’

এ বছর স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় বই মেলায় আগতদের মাস্ক ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে আয়োজক কমিটি। গেটে দ্বায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করতে দিচ্ছে না কাউকে। তাই আগতরা পাঠকরা ছোটেন মাস্কের খোঁজে। আর এই সমস্যা সমাধানে মেলায় গেটের সামনে মাস্ক নিয়ে ঘোরাফেরা করেন বিভিন্ন মাস্ক বিক্রেতারা। যাদের মুখে মাস্ক নেই তাদেরই ডাকতে থাকেন তারা। 

তেমনই এক মাস্ক বিক্রেতা সাইদকে এক দর্শনার্থীর উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায় 'মাস্কই টিকিট'। সাইদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মেলায় অনেকে নতুন আসে। তারা মাস্ক কেনার সময় জিজ্ঞাসা করে বই মেলায় ঢুকতে টাকা লাগে কিনা, তখন আমি তাদের বলি মাস্কই টিকিট। মাস্ক ছাড়া ঢুকতে পারবেন না। মাস্ক নিলে ঢুকতে দেবে। এটাই মেলার টিকিট।'

সাইদ জানান, দৈনিক প্রায় ৬০০ টাকার মাস্ক বিক্রি হয় তার। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে তার বিক্রি।15

তিনি বলেন, 'এবারই প্রথম মাস্ক বিক্রি করছি। বই মেলার শুরু থেকেই এইখানেই আছি। এর আগে গাজীপুরে কসমেটিক্সের দোকান ছিলো পার্টনারে। সেইটা ঝামেলা হওয়াই আজিমপুরে চলে আসি।'

বড় ব্যবসা ছেড়ে মাস্ক বিক্রিকে কেন বেছে নিয়েছেন? এমন প্রশ্নে সাইফ জানান, আসলে এইখানে পরিবার নিয়া চলে আসার পর হাতে কোনও কাজ ছিল না। পরে আমি এখন যেখানে থাকি ওইখানের মসজিদের পাশে খেজুর বিক্রি করা এক লোকের সঙ্গে নামাজে পরিচয়। তার কাছে কাজ চাইলে তিনি এই মাস্ক বিক্রির পরামর্শ দেন।'

এক হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে মাস্ক বিক্রির ব্যবসা শুরু করেছেন জানিয়ে সাইদ বলেন, 'বাবুবাজার থেকে ওই ভাই এক হাজার টাকার মাস্ক কিনে দেন। এইখানে প্রথম দিন সেও আসছিলো আমার সঙ্গে, আমাকে বিক্রি দেখিয়ে দেওয়ার জন্য।'

ভবিষ্যতেও মাস্ক বিক্রির ইচ্ছে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আপাতত আছি। ব্যবসার যে ঝামেলা চলতেছে ওখান থেকে ভাগের কিছু টাকা পাইলে অন্য আরেকটা ব্যবসা শুরু করবো। না হইলে বাইক কিনে পাঠাও চালাবো।’

আরেক মাস্ক বিক্রেতা হানিফ জানান, 'মাস ছয়েক ধরে মাস্ক বিক্রি করতাছি। আমি একেক সময় একেক জায়গায় মাস্ক বেচি। কখনও বাসে, কখনও শাহাবাগের ফুটপাতে।' দৈনিক গড়ে ৩০০-৪০০ টাকার মাস্ক বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।